অস্থির সিলেটের পেঁয়াজের বাজার, দাম বেড়ে দিগুণ!

প্রকাশিত: ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৯

অস্থির সিলেটের পেঁয়াজের বাজার, দাম বেড়ে দিগুণ!

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ে ভারত সরকার। এই খবর বাংলাদেশে পৌঁছার সাথে সাথেই দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের বাজারে মাত্র কয়েকঘন্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দিগুণে পৌঁছে গেছে।

সিলেট নগরীতে রোববার যে পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে সেই পেঁয়াজ সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। কোনো দোকানে আবার দেখা গেছে ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের বাজারে এমন অস্থিরতা মানতে নারাজ সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতারা।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার, তালতলা, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

পেঁয়াজ কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রান্নায় অতি প্রয়োজনীয় একটি পণ্য পেঁয়াজ। প্রতিদিনের রান্নায় পেঁয়াজ লাগে। রোববার খবরে দেখলাম ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে। তাই পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারে। কিন্তু একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম এতোটা বাড়বে তা কল্পনাও করিনি।

তারা বলেন, রোববার ভারত সরকার ঘোষণা দিল আর সোমবার বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি দিগুণ বেড়ে গেল। এটা রীতিমত অস্বাভাবিক। আমরা আম জনতা। ব্যবসায়ীদের মনে যখন যা আসে তাই করে, আর আমাদের মুখ বন্ধ করে মেনে নিতে হয়। এখন আবার পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। আমরা যারা চাকরি করি তাদের তো আয় বাড়ছে না। এভাবে সবকিছুর দাম বাড়তে থাকলে একসময় জীবন থমকে যাবে।

এ ব্যাপারে কথা হয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে। তারা বলেন, রোববার সকালে আমরা পাইকারি বাজার থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে ভারতীয় পেঁয়াজ কিনে আনি। সেই পেঁয়াজ বিকেলে একই বাজার থেকে কিনি ৭৬ টাকা দরে। আর সোমবার সকালে বাজারে গিয়ে দেখি একই পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি করছে ১০০ টাকা কেজি দরে।

একই অবস্থা সিলেটের পেঁয়াজের আড়ৎগুলোতে। দেখা যায়, আগেরদিনের চেয়ে প্রায় দিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

এব্যাপারে কালীঘাটের এক ব্যবসায়ী প্রতিবেদককে বলেন, ভারত হল গোটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ। সেই দেশ থেকেই যদি হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে বাজারে তো কিছুটা প্রভাব পড়বেই।

তিনি জানান, ভারতের পেঁয়াজের তুলনায় দেশী পেঁয়াজ সাইজে তুলনামূলক ছোট। ফলে এ পেঁয়াজের কদর সিলেটের বাজারে কম। তিনি বলেন, সিলেটের ক্রেতারা দেশী পেঁয়াজ কেনার প্রতি আগ্রহ কম দেখান। তাই আমরা দেশী পেঁয়াজ আড়তে উঠাই না। তবে যেভাবে ভারতীয় পিঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে, কিছু দিনের মধ্যেই বাজারের দেশী পেঁয়াজ চলে আসলে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে আসবে বলে মনে করেন সজল সরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বৃষ্টিতে কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমদানি খরচ কিছুটা বেড়েছে এটা সত্য, সে জন্য আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু পেঁয়াজের দাম এতটা বাড়বে কেন? এসব বড় ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত। বৃষ্টিতে পেঁয়াজের তেমন কোনো তি হয়নি। অতিরিক্তি মুনাফা করতে দেশি পেঁয়াজেরও দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কারণ এখন বাজারে দেশি পেঁয়াজেরও চাহিদা বাড়ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com