‘আইএস টুপি’র বিষয়ে কারা কর্মকর্তাদের গাফিলতি নেই : তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত: ১:১১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৯

‘আইএস টুপি’র বিষয়ে কারা কর্মকর্তাদের গাফিলতি নেই : তদন্ত কমিটি

সুরমা মেইল ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মাথায় আইএস-এর লোগো সম্বলিত টুপির বিষয়ে ‘কারা কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি নেই’ বলে জানিয়েছে কারা তদন্ত কমিটি।

 

শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আবরার হোসেনকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের এই কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন কারা মহাপরিদর্শকের দপ্তরে জমা দেন।

 

পরে কমিটির অন্যতম সদস্য ডিআইজি টিপু সুলতান বলেন, তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, “আসামিরা কারাগার থেকে যাওয়ার সময় তাদের কাছে টুপি থাকার কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। কারা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফলতিও দেখা যায়নি।”

 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছিল, হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যান কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেই আইএসের লোগো সম্বলিত টুপিটি নিয়ে এসেছিল।

 

পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুল আলম বলেন, ‘রিগ্যান আইএসের টুপিটি কারাগার থেকে পকেটে করে নিয়ে এসেছিল। প্রাথমিক তদন্তে আমরা এ তথ্য পেয়েছি।’

 

জঙ্গি রিগ্যান নিজেও বুধবার (২৭ নভেম্বর) এজলাস থেকে প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় জানিয়েছিল, কারাগার থেকেই সে আইএস টুপিটি নিয়ে এসেছিল। তবে সেদিন তার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব আলম।

 

তিনি বলেন, ‘কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে পাঠানোর আগে সঠিকভাবে তল্লাশি করা হয়েছে। এতে কোনো গাফিলতি বা ফাঁক-ফোঁকর ছিল না। আমাদের ভিডিও ফুটেজ দেখলেও তল্লাশির বিষয়টি প্রমাণ পাওয়া যাবে। যে টুপি নিয়ে কথা উঠছে, সেটির বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। ওখানে যে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন, তারা হয়তো বলতে পারবেন।’

 

বুধবার দুপুর ১২টার পর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে যে সাত জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়ছে, তাদের একজন রিগ্যান।

 

রায় ঘোষণার আগে হাজতখানা থেকে যখন আসামিদের এজলাসে নেয়া হয়, ঠিক তখন রিগ্যানের মাথায় দেখা যায় কালো একটি টুপি। সেই টুপিতে কোনো ধরনের চিহ্ন বা প্রতীক দেখা যায়নি। তবে রায়ের পর এজলাস থেকে যখন বের করা হয় আসামিদের, তখন রিগ্যানের মাথায় অন্য একটি টুপি দেখা যায়। ওই টুপিতে যে প্রতীক খচিত ছিল, সেটি জঙ্গি সংগঠন আইএস তাদের লোগো হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। পরে আসামিদের কারাগারে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধীর মাথাতেও একই ধরনের টুপি দেখা যায়।

 

কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে নিয়ে আসা এবং আদালতের হাজতখানাসহ এজলাস পর্যন্ত যে কঠোর নিরাপত্তা ছিল, তার মধ্যেই রিগ্যানের পকেটে সেই আইএস টুপি কিভাবে এলো, তা নিয়ে তোলপাড় ওঠে সারাদেশে। কারা কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তরও মেলেনি এ বিষয়ে। তবে টুপির রহস্য ভেদ করতে নড়েচড়ে বসে কারা কর্তৃপক্ষসহ পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী। আইএস টুপির রহস্য ভেদ করতে বুধবারই তদন্ত কমিটি গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com