আপত্তিকর প্রশ্ন-ভিডিও: সেই ওসির মামলার রায় আজ

প্রকাশিত: ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

আপত্তিকর প্রশ্ন-ভিডিও: সেই ওসির মামলার রায় আজ

সুরমা মেইল ডেস্ক : মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর অভিযোগে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর)।

 

সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আসসামছ জগলুল হোসেন গত ২০ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলার রায়ের জন্য এ দিন ঠিক করেন।

 

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

 

গত ২৬ মে সাইবার আদালতে এ সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদর দপ্তরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা।

 

তখন রিমা সুলতানা বলেন, ব্যারিস্টার সুমনের মামলাটি প্রথমে অভিযোগ আকারে ছিল। পরে পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত। ওসির বিরুদ্ধে থানায় নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে প্রমাণিত সব তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিবেদন আদালতকে দেওয়া হয়েছে।

 

গত ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এ অভিযোগে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম। ওসি নিয়ম ভেঙে নুসরাতকে জেরা করেন এবং বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে রাফি ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়ে যায়।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, ওসির সামনে অঝরে কাঁদছেন রাফি। সেই কান্নার ভিডিও করেন থানার ওসি। রাফি তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রাখেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবার ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনো তোমাকে কাঁদতে হবে।’

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়ম ভেঙে রাফিকে জেরা ও তা ভিডিও করেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি মোয়াজ্জেম অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষায় রাফিকে একের পর প্রশ্ন করছেন। রাফির বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নও করেন ওসি।

 

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যান ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে চার-পাঁচজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফি মারা যান।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com