ইউপি নির্বাচন: আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি!

প্রকাশিত: ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৬

ইউপি নির্বাচন: আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি!

download
সুরমা মেইল নিউজ : আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি মঙ্গলবার হতে। সিলেট সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার এ নির্বাচনকে ঘিরে সদরের এ পাড়া থেকে অপাড়ায় চলছে নানা হিসেব নিকেশ। এরই মধ্যে গতকাল রোববার রাত ১২ টা থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরণের প্রচার-প্রচারণা। বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন মোটরযানে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবিও। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সব ধরণের প্রস্তুতি। এখন কেবল অপেক্ষা ভোট প্রয়োগের। যার মধ্যে দিয়ে নির্বাচিত হবেন আগামী ৫ বছরের জন্য জনপ্রতিনিধি। তবে কে পাচ্ছেন সেই অভিভাবকের দায়িত্ব? সর্বত্র এখন এই একটাই প্রশ্ন। সদর উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে সম্ভাব্য তালিকায় অনকে প্রার্থীর নাম উঠে এসেছে। তবে প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশে বেশ গরমিল রয়েছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা কাজ করছেন না দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে। হয় কাজ করছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে। না হয় কাজ করছেন প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীর পক্ষে। এমন সমীকরণে বদলে যেতে পারে অনেক হিসেব-নিকেশ। তবে সবকিছুর পরে সদরের ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ২/১টি ছাড়া মূল লড়াইয়ে আবির্ভূত হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। যে কারণে শেষ পর্যন্ত লড়াই হবে আওয়ামী লীগের সাথে আওয়ামী লীগের।

সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ-বিএনপির দলীয় প্রার্থীসহ মোট ৪৯০ জন প্রার্থী রয়েছেন। যার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪০ জন, সংরক্ষিত মহিলা পদে ৯১ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৫৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৮টি ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৩৭০ জন। যার মধ্যে পুরুষ রয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ১শ’ ৫১ জন। আর মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ২শ’ ১৯ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার (৫৬ হাজার) ৪ নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নে। আর সবচেয়ে কম ভোটার (১১ হাজার) ১ নং জালালাবাদ ইউনিয়নে। মোট ৯৫টি কেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তবে অর্ধেকেরও বেশি (৫০টি) কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ (প্রশাসনের ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ) রয়েছে।

সদর উপজেলার ১ নং জালালাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ৫জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন ৩জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আশ্রব আলী (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইসলাম উদ্দিন (ধানের শীষ) এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনফর আলী (চশমা)। এখানে ত্রিমুখি লড়াই হলেও মূলত আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মনফর আলী ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত লড়াই হবে। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার হচ্ছেন ১১ হাজার ৪৪ জন।

২ নং হাটখোলা ইউনিয়নে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৭ জন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খুর্শিদ আহমদ (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজির উদ্দিন (ধানের শীষ) এবং জামায়াত প্রার্থী মাস্টার শামছ উদ্দিনের মধ্যে ত্রিমুখি লড়াই হবে। এই ৩জন থেকে যে কেউ নির্বাচিত হতে পারেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৪ শ’ ৩৭জন।

৩ নং খাদিমনগর ইউনিয়নে প্রার্থীর সংখ্যা মোট ৫ জন। তার মধ্যে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন ৩জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তারা মিয়া (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইলিয়াছ আলী (ধানের শীষ) এবং সতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা, বর্তমান চেয়ারম্যান দিলোয়ার হোসেন (চশমা)। এখানেও ত্রিমুখি লড়াই হবে। তবে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান দিলোয়ার হোসেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন ৩৩ হাজার ৯শ’ ৬২ জন। যা সদরের মধ্যে ভোটারের দিক দিয়ে ২য় বৃহৎতম।

৪ নং খাদিমপাড়া ইউনিয়ননে মোট প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম বিলাল (নৌকা) ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফছর আহমদের মধ্যে (আনারস) দ্বিমুখি লড়াই হবে। তবে এ ইউনিয়নে সংঘাতের আশংকা রয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বিলাল বার বার দাবি করে আসছেন, এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্র দখলের পায়তারা করছেন। তবে সেটি উড়িয়ে দিয়েছেন অ্যাডভোকেট আফছর আহমদ। বরং চেয়ারম্যান বিলাল ভোটারদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন বলে তিনি জানান। এ ইউনিয়নে সদরের সবচেয়ে বেশি ৫৬ হাজার ৮শ’ ৬৯ জন ভোটার রয়েছেন। এখানে বিএনপি প্রার্থী ফারুক মেম্বার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে রয়েছেন।

৫ নং টুলটিকর ইউনিয়নে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৪জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল মোছব্বির (নৌকা) এবং আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম আলী হোসেনের মধ্যে (আনারস) দ্বিমুখি লড়াই হবে। টুলটিকর ইউনিয়নে মোট ভোটার হচ্ছেন ১৩ হাজার ৬ ৪২ জন। এখানে বিএনপি প্রার্থী কাজি মুহিব ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে রয়েছেন।

৬ নং টুকেরবাজার ইউনিয়নে মাত্র ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির হেভিয়েট প্রার্থী দু’বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শহীদ আহমদ এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলতাব হোসেন (নৌকা)। এ ইউনিয়নে মাত্র দুই প্রার্থী থাকায় দ্বিমুখি লড়াই হবে। তবে জনমতের দিক দিয়ে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩১ হাজার ৮শ’ ৯৯ জন।

৭ নং মোগলগাঁও ইউনিয়নে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৪ জন। যার মধ্যে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম টুনু মিয়া (আনারস) এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিরন মিয়ার মধ্যে (নৌকা) দ্বিমুখি লড়াই হবে। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম টুনু জনমতের দিক দিয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। মোগলগাঁওয়ে ১৮ হাজার ১শ’ ৮ জন ভোটার রয়েছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী মাসুক মিয়া (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে রয়েছেন।

৮ নং কান্দিগাঁও ইউনিয়নে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৫জন। এর মধ্যে ত্রিমুখি লড়াইয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী আহমদ আলী (ধানের শীষ) এবং সতন্ত্র থেকে প্রার্থী হওয়া জামায়াত নেতা আবদুল মনাফ (চশমা)। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোঃ নিজাম উদ্দিন অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন ২৫ হাজার ২শ’ জন।

চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন দলীয়ভাবে হলেও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের ভোট হচ্ছে নির্দলীয়ভাবে। প্রথম ধাপে ৭৫২ ইউপির ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (২২ মার্চ)। এরপর ৩১ মার্চ ৭১০টি ইউপি, ২৩ এপ্রিল ৭১১টি ইউপি, ৭ মে ৭২৮টি ইউপি, ২৮ মে ৭১৪টি ইউপি এবং ৪ জুন ৬৬০টি ইউপিতে ভোট হবে। সিলেটের মধ্যে প্রথম ধাপে একমাত্র সদর উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com