এমপিওভুক্তির আশ্বাস: শরবত পান করিয়ে অনশন ভাঙালেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ২:২৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

এমপিওভুক্তির আশ্বাস: শরবত পান করিয়ে অনশন ভাঙালেন শিক্ষামন্ত্রী

সুরমা মেইল ডেস্ক : প্রায় তিন হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণার আগের দিন এমপিও’র দাবিতে আন্দোলনকারী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পানি খাইয়ে অনশন ভাঙালেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

 

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাতে মন্ত্রীর হেয়ার রোডের বাসায় নন-এমপিও শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ মজুমদারকে শরবত পান করিয়ে অনশন ভাঙান শিক্ষামন্ত্রী।

 

শেখ হাসিনা আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) গণভবনে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা ঘোষণা করবেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন করে এমপিও ঘোষণার পর আগামী ১৪ নভেম্বর নীতিমালা সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করবে মন্ত্রণালয়। সেই কমিটিতে নন-এমপিও শিক্ষকদের প্রতিনিধিও রাখা হবে। আর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে সহায়তা দেবে মন্ত্রণালয়।

 

দীপু মনি বলেন, আগামী বছর থেকে নিয়মিত এমপিওভুক্তি চালুর বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, প্রতিবছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী বছর থেকে প্রতিবছর এমপিওভুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি হবে। সে অনুযায়ী তাদের এমপিওভুক্ত করা হবে।

 

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, খুব শিগগিরই আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হবে। এমপিও নীতিমালা সংশোধন করা হবে তাতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিও রাখা হবে। তাদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।

 

সাংবাদিকদের দীপু মনি জানান, সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেছি। তারা দীর্ঘ দিন ধরে এমপিওভুক্তির জন্য আন্দোলন করছেন। বিগত প্রায় নয়-দশ বছর ধরে এমপিওভুক্তি হয়নি। সারাদেশেই এমপিওভুক্তির একটা চাহিদা আছে। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছি।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় শিক্ষকদের পক্ষে। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নেবেন— প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিই চান। তার নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের প্রতিটি দাবিকে সরকার আমলে নিয়েছে। তবে কোনোকিছুই একদিনে পরিবর্তিত হয় না। দাবি-দাওয়া পূরণে একটু সময় দিতে হবে। ধাপে ধাপে আমরা সবগুলো দাবিই পূরণ করব।

 

পরে শিক্ষক নেতারা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই সরকার ও সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শিক্ষকবান্ধব। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখছি। তবে অর্ধেক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে, অর্ধেক হবে না— আমরা আশা করব এমন কিছু হবে না। তা যদি হয়, তাহলে সময়ই বলে দেবে আমরা কী করব।

 

শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, আমরা চাই প্রতিটি স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে। কোনো শিক্ষক বা শিক্ষকের পরিবার অর্থকষ্টে দিনযাপন করবে-এমনটি আমরা কখনো দেখতে চাই না।

 

গত ১৫ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষকরা। দাবি আদায়ে তারা একপর্যায়ে অনশনও শুরু করেন। পরে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে শুক্রবার অনশন ভাঙলেও রাজপথ ছাড়েননি তারা। রোববার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা থাকায় তারা বৈঠকের আগ পর্যন্ত মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। পরে রোববার ওই বৈঠকের পর ফের শিক্ষকরা অনশন শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত আজ শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের পর তারা অনশন-আন্দোলন— দু’টোরই সমাপ্তি ঘটালেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com