ওয়ানডে জয়ের ‘শততম’র রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৬

ওয়ানডে জয়ের ‘শততম’র রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

download-1স্পোর্টস ডেস্ক :: দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে শততম ওয়ানডে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ টাইগাররা। শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে ১৪১ রানের স্বস্তির জয়ে। সিরিজটা জিতল মাশরাফি বাহিনী ২-১ ব্যবধানে। এর ফলে বাংলাদেশের ২১তম ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত হলো।

সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৭৯ রান তুলে টাইগাররা। জবাবে ৩৩.৫ ওভারে ১৩৮ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। ম্যাচ সেরা হন বাংলাদেশের সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল।

২৮০ রানের টার্গেটটাই বড়সড় চাপে ফেলে দিয়েছিল আফগানিস্তানকে। যা ইনিংসের কখনোই কাটিয়ে  উঠতে পারেনি তারা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই মাশরাফি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করেন শেহজাদকে (০)। পরের বলটি করতে গিয়ে পপিং ক্রিজে পা পিছলে পড়ে যান মাশরাফি। পরে অবশ্য উঠে দাঁড়ান তিনি এবং বোলিং করেন। ১৪তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন মোশাররফ। নওরোজ মঙ্গল ও হাসমতউল্লাহ শাহিদিকে (০) ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার। নওরোজ মঙ্গল ৩৩ রান করেন। আজগর স্ট্যানিকজাইকে (১) রান আউট করেন সাকিব।

পরপর দুই ওভারে শর্ট বলের ফাঁদে ফেলে সামিউল্লাহ শেনওয়ারি (১৩) ও রহমত শাহকে শিকার করেন তাসকিন। রহমত শাহ ৩৬ রান করেন। পরে আর কেউ ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। নাজিবউল্লাহ জাদরান ২৬ ও রশিদ খানের ১৭ রানে ভর করে আফগানরা একশো পার হয়। বাংলাদেশের পক্ষে মোশাররফ ৩টি, তাসকিন ২টি করে উইকেট পান।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। শনিবার সেই আক্ষেপ পূরণের শুরুটা করেছিলেন তামিম ও সাব্বির। প্রথম ম্যাচে ৮০, দ্বিতীয় ম্যাচে ২০ রানের ইনিংসের পর এদিন আবারো হাসলো তামিমের ব্যাট। তামিমের দৃষ্টিনন্দন সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি ও সাব্বিরের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরিতে মঞ্চ তৈরি হয়েছিল তিনশো ছাড়ানোর। যদিও ইনিংসের শেষ বেলায় পথ হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান যোগ করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। তাই স্কোরবোর্ডে জড়ো হয়নি প্রত্যাশিত স্কোর।

দলীয় ২৩ রানে সৌম্যর (১১)  বিদায়টা বিপদ ডেকে আনতে পারেনি টস জয়ী বাংলাদেশের জন্য।  তামিম ও প্রথমবার তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা সাব্বির দলের হাল ধরেন। ব্যক্তিগত ১ রানে জীবন পেলেও ৮ম ওভারে মিরওয়াইস আশরাফকে তিন চার মেরে খোলসমোচন হয় এই বাঁহাতির। ১১তম ওভারে দৌলত জাদরানকে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা মেরে নড়বড়ে শুরু কাটিয়ে থিতু হন সাব্বিরও।

তাদের ছন্দায়িত, গতিময় ব্যাটিংয়ে এগোয় বাংলাদেশের ইনিংস। ৬৩ বলে তামিম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। সাব্বির পঞ্চাশে পৌঁছান ৬৭ বলে। তাদের ১৪০ রানের জুটি বিচ্ছিন্ন হয় সাব্বির আক্রমণাত্মক হয়ে উইকেট বিলিয়ে দিলে। ৭৯ বলে খেলেন ৬৫ রানের (৬ চার, ৩ ছয়) ইনিংস খেলেন সাব্বির। ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে তামিম তুলে নেন ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। সাকিবকে (৬টি সেঞ্চুরি) টপকে হয়ে যান দেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান। তিন ফরম্যাটেই দেশের সেরা সেঞ্চুরিয়ান এখন তিনি। সেঞ্চুরির পর যেন আরও বেপরোয়া, র্দুবিনীত হতে উঠে তামিমের ব্যাট। ৩৮তম ওভারে রহমত শাহকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন তিনি। নবীর বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়ার আগে তামিম খেলেছেন ১১৮ বলে ১১৮ রানের (১১ চার, ২ ছয়) চিত্তাকর্ষক ইনিংস।

তামিম-সাকিবের জুটির ইতি ঘটে ৪৯ রান যোগ করে। দলীয় ২২৬ রানে সাকিব ফিরেন ১৭ রান করে। পরের ২২ রানে ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। মুশফিক (১২), মোসাদ্দেক (৪) রশিদ খানের শিকার হন। মোশাররফ (৪), মাশরাফি (২) দ্রুত ফিরলেও শেষ দিকে আড়াইশোর কোটা পেরিয়েছে বাংলাদেশ মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। ২২ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন তিনি। আফগানিস্তানের পক্ষে নবী, মিরওয়াইস আশরাফ ও রশিদ খান ২টি করে উইকেট পান।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com