কওমি স্বীকৃতি প্রদানে অনেকেই বিরোধিতা করেছেন : সিলেটে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৯

কওমি স্বীকৃতি প্রদানে অনেকেই বিরোধিতা করেছেন : সিলেটে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার শতবার্ষিকী ও দস্তারবন্দী মহাসেম্মলনের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ওলামা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।

 

মহাসেম্মলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার প্রশংসা করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে জামেয়া রেঙ্গাসহ কওমি মাদ্রাসা আছে বলেই আমরা ইসলাম ধর্মের সঠিক বিষয়াবলী জানতে পারছি। এজন্য আমাদের সরকার কওমি মাদ্রাসাগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে।’

 

‘কারণ, ইসলামি শিক্ষা না থাকলে আমাদের অস্তিত্বই থাকবে না। ইনশাআল্লাহ, যথাসময়ে আমাদের সরকার কওমি মাদ্রাসাগুলোকে আরও মূল্যায়ন করবে আশ্বস্থ করেন তিনি।’

 

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি প্রদানে আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই আন্তরিক ছিল। ১৯৯৬ থেকেই স্বীকৃতির বিষয়ে আমি কাজ করছি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী আলেমদের কাছে স্বীকৃতি দেয়ার ওয়াদা করেছিলেন। বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তিনি তার ওয়াদা পূর্ণভাবে রক্ষা করেছেন।’

 

অনেকেই কওমি সনদের বিরোধীতা করেছিল জানিয়ে শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘কওমি সনদের স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই বিরোধিতা করেছেন। এমনকি আমাদের দল ও জোটের অনেকেও বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তার কথায় অটল-অবিচল। স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাঁধা শেখ হাসিনাকে টলাতে পারেনি।’

 

শতবর্ষী এই জামেয়ায় সম্মেলনের ২য় দিন ছিল ধর্মপ্রাণ মানুষের উপচে পড়া ভীড়। শীতের রাতেও বিশাল শামিয়ানা মুসল্লি পূর্ণ ছিল।

 

চার অধিবেশনে অনুষ্ঠিত মহাসেম্মলনের দ্বিতীয় দিনে সভাপতিত্ব করেন জামেয়ার সরপরস্ত মাওলানা শামসুল ইসলাম খলিল, আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালিম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দীন, দারুল উলুম কানাইঘাটের মুহতামিম শায়খ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস লক্ষ্মীপুরী, দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটজারীর সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা শেখ আহমদ।

 

মাওলানা মুতিউর রহমান, মাওলানা জহিরুল ইসলাম ও মাওলানা যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া ঢাকার আমিনুত তালীম মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, বিচ্ছিন্নতার ব্যাপারে আমাদের সতর্কতার সঙ্গে এগুতে হবে। বিচ্ছিন্নতা শুধু আকিদার ব্যাপারে নয়; বরং দ্বীনের সকল মাসায়েলের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতার প্রভাব রয়েছে। আমরা মনে করি, শুধু আকিদার মাধ্যমেই বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়। আকিদা নয়, বরং সর্বক্ষেত্রে আমাদের মাঝে ঐক্য থাকতে হবে।

 

সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুস উস সামাদ চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরী, দ. সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম, মাওলানা আব্দুল বারী ধর্মপুরী, মাওলানা আব্দুল মালিক রূপষপুরী, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাতিয়া, মাওলান হিলাল আহমদ আহমদ হরিপুর, মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলীল প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com