কানাইঘাটে কমিউনিটি সেন্টারে মিললো নারী-পুরুষের লাশ

প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২১

কানাইঘাটে কমিউনিটি সেন্টারে মিললো নারী-পুরুষের লাশ

মুমিন রশিদ, কানাইঘাট : সিলেটের কানাইঘাটের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে বাবুর্চি ও তার নারীর সহযোগীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই সাথে গুরুতর অবস্থায় উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রামের নাজিম উদ্দিন নামে আরও এক বার্বুচিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

উপজেলার বানীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী বাজার আনন্দ কমিউনিটি সেন্টার থেকে বুধবার (০১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। রহস্যজনক এ মৃত্যু নিয়ে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

নিহতরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি নয়াগ্রামের মৃত রহমত উল্ল্যাহের ছেলে বাবুর্চি সোহেল (৩০) ও ওসমানীনগর উপজেলার তাহেরপুর গ্রামের মৃত আক্কাছ আলীর মেয়ে সালমা বেগম (৩৫)।

 

ময়নাতদন্তের জন্য নিহত দু’জনের লাশ কানাইঘাট থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

 

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আব্দুল করিম, কানাইঘাট থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল হক।

 

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের রান্না করার জন্য আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে যান সুহেল আহমদ, সালমা বেগম ও নাজিম উদ্দিন। রাতে তারা কমিউনিটি সেন্টারের ২য় তলার একটি কক্ষে শুয়ে পড়েন। পরদিন বুধবার সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে এ ৩ জন না উঠলে বিয়ের আয়োজনকারী জসিম উদ্দিন তাদের ডাকতে রুমে যান।

 

এ সময় ডাকাডাকির পরও তারা ঘুম থেকে না উঠায় একপর্যায়ে কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন কক্ষের ভিতর তাদের এলোমেলো অবস্থায় পড়ে দেখেন। ছোট কক্ষের ভিতরে মশার কয়েল ও রান্না কয়েল ধুয়ায় আচন্ন রয়েছে।

 

একপর্যায়ে এ তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগন সুহেল ও সালমা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আশংকাজনক অবস্থায় নাজিম উদ্দিনকে ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করেন। নিহত দু’জনের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ধুয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

 

এদিকে, নিহতদের স্বজনদের দাবি, তাদেরকে মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করা হতে পারে।

 

অপরদিকে থানা পুলিশসহ অনেকের ধারনা ছোট একটি রুমে তিনজন লাকড়ী ও মশার কয়েল জ¦ালিয়ে শুয়ে থাকার কারনে ধুয়ায় আচন্ন হয়ে অক্সিজেনের কারনে শ^াস প্রশাস জনিত কারনে ঘুমের মধ্যে মারা যেতে পারেন।

 

থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান, মঙ্গলবার রাতে বিয়ের সেন্টারে রান্না করার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়েন।

 

বুধবার সকালে রান্না ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় ভেতর থেকে কোন সাড়াশব্দ না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর তাদের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া আসা হয়। কি কারনে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর জানা যাবে।

 

তবে তিনি ধারণা করছেন, যে রুমে তারা শুয়েছিলেন রুমটি ছোট ছিল যার কারনে ধুয়ায় আচন্ন থাকায় তাদেও মৃত্যু হতে পারে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com