গোলাপগঞ্জের রোজিনাকে,বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ পুলিশ সুপার বরা বরে আবেদন ।

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

গোলাপগঞ্জের রোজিনাকে,বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ পুলিশ সুপার বরা বরে আবেদন ।

সুরমা মেইল ডেস্ক,

গোলাপগঞ্জে তালতো ভাই সিলেট নর্থ ইষ্ট মেডিকেল হাসপাতালের সহকারী রেজিষ্ট্রার ,জবাউলের প্রেমের ফাঁদে রোজিনা অন্তঃসত্বা

 

সিলেটভুমি প্রতিবেদকঃঃ সম্পর্কে তালতো ভাই পরিচয় থেকে ভালো লাগা , ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা মন দেওয়া নেওয়া তার পর প্রেম, প্রেম থেকে গভীরতা চলছে। ২০০৬ থেকে ২০২০ দীর্ঘ ১৪ বৎসর। সিলেট নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিষ্ট্রার ,জবাউল ইসলাম গোলাপগঞ্জের রোজিনার সাথে ১৪ বৎসর ধরে প্রেমের সম্পর্ক করে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন স্থানে তাহাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। রোজিনাকে অন্তঃসত্বা করে বিপদ থেকে বাঁচতে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে রোজিনার গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করে জবাউল ইসলাম রোজিনাকে এখন প্রানে মারার হুমকি দিচ্ছেন।

 

এ ঘটনায় রোজিনা ১৪ সেপ্টম্বর রোজ সোমবার ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে বিবাদী করে সিলেট পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন।

 

বিবাদীগন হলেন,
গোলাপগঞ্জ পৌরসভার স্বরসতী ৪নং ওয়ার্ডের ,মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে সিলেট, নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের , সহকারী রেজিষ্ট্রার,জবাউল ইসলাম ও তার বড় ভাই মঞ্জুর আহমদ। ৪নং ওয়ার্ড, ফুলবাড়ী ইউ/পি, সদস্য আব্দুর রহিম।ফুলবাড়ী গ্রামের মৃত সিদ্দেক আলীর ছেলে আলী আকবর ফখর, আরিফ আহমদ সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জ উত্তর মাইজভাগ গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের মেয়ে রোজিনা বেগমের সাথে ২০০৬ সালে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার স্বরসতী ৪নং ওয়ার্ডের ,মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে সিলেট, নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিলেট, সহকারী রেজিষ্ট্রার,জবাউল ইসলামের।
রোজিনার তালতো ভাই হওয়ার সুবাদে তাহার সাথে ২০০৬ সালে পরিচয় সহ কথাবার্তা হয়। এক পর্যায়ে পরিচয়ের সুবাদে তাহার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে জবাউল রোজিনা কে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে তাহার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে তাহাকে বিভিন্নভাবে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক তাহার সাথে শারীরিক সম্পর্কে গড়ে তোলে এবং বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন স্থানে রোজিনাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিবাদী প্রেমিক জবাউলের ধর্ষণের ফলে প্রেমিকা রোজিনা অন্তঃসত্বা হইয়া পড়িলে সে প্রেমিক জবাউলকে বিষয়টি জানায় এবং বিবাহের জন্য চাপ সৃষ্টি করিলে সে বিবাহ করিবে বলিয়া সময় ক্ষেপণ করিতে থাকে। রোজিনা তাহার মান সম্মানের বিষয়টি বিবেচনা করে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি বিবাদী প্রেমিকে জানালে তাহার পরামর্শে রোজিনা সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করে।

 

অভিযোগে আরো জানা যায়, পরবর্তীতে প্রেমিক জবাউল বিভিন্ন চাপের মুখে পড়ে রোজিনাকে বিবাহ করার সম্মতি দিলে উভয় পরিবারের লোকজনদের মধ্যস্থতায় গত ২৩ জানুয়ারী ২০২০ ইং বিবাহের দিন তারিখ ধার্য্য করা হয়। পরিবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাকেন। বিবাহের অনুমান ১ সপ্তাহ পূর্বে প্রেমিক জাবাউলের বড় ভাই -মঞ্জুর আহমদ রোজিনার পিত্রালয়ে এসে মাতা ও বড় বোন রেহানা বেগমের নিকট তাহাদেরকে পনের লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য দাবী করে। নতুবা জবাউলের সাথে রোজিনার বিবাহ দেওয়া হবে না বলে জানায়। প্রেমিক জবাউলের বড় ভাই মন্জুর কথায় রোজিনার মা, বড় বোন সহ পরিবারের লোকজন হতঃভম্ব ও অসহায় হইয়া পড়েন।

এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজন নিরুপায় হইয়া বিবাদী-আব্দুর রহিম এর শরনাপন্ন হইলে তিনি বিষয়টি সমাধান করে জবাউলের সাথে রোজিনার বিবাহ কার্য্য সম্পাদন করিয়া দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পরবর্তীতে আব্দুর রহিম বিবাদী-আলী আকবর ফখর, -আরিফ আহমদ সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন লোক নিয়ে রোজিনার বাড়ীতে এসে বলেন তাহাদেরকে এক লক্ষ টাকা দিলে তাহারা বিষয়টি সমাধান করিয়া দিবেন । তখন রোজিনার মা ও বড় বোন রোজিনার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করিয়া বিবাদীদের প্রস্তাবে রাজি হন এবং বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিবাদী-আব্দুর রহিম-কে এক লক্ষ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু বিবাদীগণ টাকা গ্রহণ করে বিষয়টি সমাধান করে দেয়নি। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর রোজিনাী মা ও বড় বোন বিবাদী আব্দুর রহিমকে তাহার বাড়ীতে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করার বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে ক্ষিপ্ত হইয়া রোজিনার মাতা ও বড় বোনকে গালিগালাজ সহ দেখে নিবে বলিয়া বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে। রোজিনার মাতা ও বড় বোন নিরুপায় হইয়া বাড়ীতে চলে আসেন।
অপরদিকে বিবাদীদের গোলাপগঞ্জ এলাকায় গোল্ডেন গ্রুপ নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। যাহার কারণে তাহাদের বিরুদ্ধে এলাকায় কাহারো কথা বলার সাহস হয় না।

 

জবাউলের প্রত্যক্ষ ও প্ররোক্ষ পরামর্শে ও হুকুমে বিবাদীগণ তাহাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়া বিভিন্ন সময়ে বাড়ীতে আসিয়া তাদেরকে রাস্তা-ঘাটে একা পায়ে বিভিন্ন কু-রুচিপূর্ণ কথাবার্তা, হয়রানি সহ মান-সম্মানের হানিজনক কথাবার্তা বলিয়া সমাজে হেয়প্রতিপন্ন সহ পারিবারিক, সামাজিক মান সম্মান ক্ষুণ সহ প্রাণ নাশের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করিতেছে এবং থানা পুলিশ বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার শরনাপন্ন হইলে তাদেরকে প্রাণে হত্যা করিবে বলিয়া ভয়ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। যে কোন সময় রাস্তা-ঘাটে একা পেয়ে তাহাদের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়া রোজিনাকে অপহরণ সহ যে কোন বড় ধরণের ক্ষতিসাধন করিতে পারে। বিবাদীদের ভয়ে বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com