প্রচ্ছদ

চেম্বার নির্বাচন; কর্মচারিকে মালিক সাজিয়ে ভোটার: ব্যবসায়ীর অভিযোগ

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৫১

সুরমা মেইল ডেস্ক

নির্বাচনের আগে আবারো সিলেট চেম্বার অব কমার্সের ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিকে মালিক সাজিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তভক্তির অভিযোগ প্রবল হয়ে ওঠেছে। এ ইস্যুতে শনিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) চেম্বারের নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী।

নগরীর আম্বরখানা বরকতিয়া সুপার মার্কেটের কলি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সিরাজ উদ্দিন নামে ওই ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি চেম্বারের একজন নিয়মিত সদস্য। ২০১৯-২১ সালের হালনাগাদ তালিকায় তার ভোটার নং-৮৮৪। কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবর্তে সুভাস চন্দ্র সেন নামে একজনকে ভোটার করা হয়েছে।

ওই সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে অভিযোগে ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন উল্লেখ করেন, কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে প্রতারণামূলক এই কাজ করেছেন। সিলেট চেম্বারে প্রশাসক থাকার পরও এ ধরণে ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ব্যবসায়ীরা জানান, বরকতিয়া মার্কেটে কলি ট্রেড সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী সুভাস চন্দ্র সেন চৌধুরী সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদ্য বিদায়ী সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদের মালিকানা “শিপার এয়ার সার্ভিস ট্রাভেল এজেন্সীর ম্যানেজার। অনেক ব্যবসায়ীও তাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনেন-জানেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তাকে ভোটার বানানোর হীন চেষ্টা পুরো ভোটার তালিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ বিষয়ে সিলেট চেম্বারের নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দিন খান জানান, ওই ব্যবসায়ী তার প্রতিনিধির মাধ্যমে অফিসে অভিযোগ কপি দিয়েছেন। রোববার তাকে ডেকে নিয়ে বসা হবে।

তিনি বলেন, সাধারণত ভোটার তালিকায় অনেকে প্রতিনিধি দিয়ে থাকেন। নয়তো, উনার ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেট পাওয়ার কথা না। তাছাড়া খসড়া তালিকা যখন প্রকাশ করা হয়েছিল, তখন ব্যবসায়ীদের দেখা প্রয়োজন ছিল, তার নামের স্থলে কেউ অন্তভূক্ত হচ্ছেন কি না। তার মতে, ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়া সর্বত্র ডিজিটাল না হওয়ার কারণে অনেক জাল জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে। যদি ডিজিটাল হতো, তবে একটাও জাল সনদ হয়তো মিলতো না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একইভাবে আরো কয়েক শত জাল ভোটার রয়েছে চেম্বার অব কমার্সের ভোটার তালিকায়। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তালিকা ধরে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন এবং ক্রমশ; তালিকা থেকে জাল ভোটার বেরোচ্ছে।

কেবল সুভাস চন্দ্র সেন নয়, খন্দকার শিপার আহমদের মালিকানা প্রতিষ্ঠান নগরের সুবিধবাজার রেইবো গেস্ট হাউসের ব্যবস্থাপক রামিম, শিপার এয়ারের কর্মচারি দিরাজ রায়, হাবিবুর রহমানকেও ভোটার তালিকায় অন্তভূক্ত করা হয়েছে,

অভিযোগ ব্যবসায়ীদের অনেকের। সিলেট চেম্বার অব কমার্সের ভোটার তালিকায় গত কয়েক বছর থেকে জাল ভোটার করা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। ফলে এ বছরের ২৭ এপ্রিল নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ভোটার তালিকায় গলদ ইস্যু আদালতেও গড়ায়। এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি দৈব চয়নে ৪০ শতাংশ জাল ভোটার করার সত্যতা পায়। এ কারণে বিতর্ক নিয়ে বিদায় নেন সদ্য সাবেক পর্ষদ। ফলে মামলা জটিলতায় প্রায় ৫ মাস পিছিয়ে যায় নির্বাচন। এই অবস্থায় সিলেট চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্যমন্ত্রণালয়। প্রশাসকের নেতৃত্বে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় গত ৮ আগস্ট।

নতুন এই ভোটার তালিকা সর্বমোট ভোটার ২ হাজার ৪৬৫ জন। এরমধ্যে ১ হাজার ৪১৩ জন, অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৪০ জন, গ্রুপ ক্যাটাগরিতে ১১ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশনে ১ জন।

অর্ডিনারি ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৯১৩ জনের ৫শ জন বেঁধে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সদস্যপদ নবায়ন করেননি। এছাড়া অর্ডিনারি ক্যাটাগরিতে ৭৮২ জন নবায়ন করেননি।

এখন নির্বাচন কড়া নাড়ছে সিলেটে ব্যবসায়ীদের এই বৃহৎ সংগঠনে। আগামি ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। তাই ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ থাকার কথা থাকলেও জাল ভোটারের কারণে নির্বাচনের আমেজে খানিকটা হলেও ভাটা পড়েছে, মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

চারটি গ্রুপে অর্ডিনারী ক্যাটাগরিতে জনপ্রতি ১২ ভোট, এসোসিয়েটে ৬ ভোট, গ্রুপে ৩ ভোট এবং টাউন ক্যাটাগিরিতে ১ ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com