ছাতকে চাঁদা না পেয়ে শ্রমিক হত্যা, অনির্দিষ্টকালের নৌ-ধর্মঘট

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০১৬

ছাতকে চাঁদা না পেয়ে শ্রমিক হত্যা, অনির্দিষ্টকালের নৌ-ধর্মঘট

download (1)

সুরমা মেইল নিউজ : সুনামগঞ্জের নদী ও হাওরপথের ১৫ স্থানে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে। শনিবার রাতে সুনামগঞ্জের ছাতকে চাঁদাবাজদের বেধড়ক মারপিটে এক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রোববার থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে অনির্দিষ্টকালের নৌ-ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে নৌ-মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। ছাতকে চাঁদাবাজদের মারপিটে নিহত শ্রমিকের নাম হারিছ মিয়া (৩৫)। তিনি করিম নেওয়াজ নৌপরিবহনের একজন শ্রমিক।

বাংলাদেশ জাহাজ-বাল্কহেড শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও বাংলাদেশ বাল্কহেড বোর্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওরাইল-পাক শিমুল বন্দর আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম আউয়াল জানান, নামে-বেনামে রশিদে-বিনা রশিদে সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন নদীপথে অন্তত ১৫-২০ স্থানে চাঁদাবাজদের অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন নৌ-শ্রমিকরা। তারা বাল্কহেড, কার্গো বা জাহাজপ্রতি ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকাও আদায় করছে। গতকাল সন্ধ্যায় সিলেটের কানাইঘাটের ধোবা থেকে করিম নেওয়াজ নৌপরিবহন নামে বাল্কহেডটি ঢাকার উদ্দেশে যাওয়ার সময় সুরমা নদীর ছাতক পৌরসভার শ্যামপাড়া এলাকায় মারুফ মিয়া, গোলাপ মিয়া ও কদ্দুছ মিয়া বাল্কহেডটি আটক করে চাঁদা দাবি করে। এ সময় বাল্কহেডের শ্রমিক হারিছ মিয়া চাঁদা কী কারণে দিতে হবে? জিজ্ঞেস করায় লোহার রড দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহতাবস্থায় হারিছ মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের নৌ-ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, সুনামগঞ্জের নৌপথের ৭ পয়েন্টে চাঁদাবাজি হয় উল্লেখ করে গত বছর নৌ-শ্রমিকরা আবেদন করায় ওইসব পয়েন্টে পুলিশ অভিয়ান চালানো হয়েছিল এবং চাঁদাবাজিও বন্ধ হয়েছিল। এবার শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আবার পুলিশি অভিযান চালানো হবে।

কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হবে এবং তারা শ্রমিক খুনের ঘটনায় মামলা দিলে মামলা নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করারও আশ্বাস দেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com