ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ আহত ৪৫, গ্রেপ্তার ১৪

প্রকাশিত: ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ, মে ৩, ২০১৮

ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ আহত ৪৫, গ্রেপ্তার ১৪

সুনামগঞ্জের ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ ৪৫ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ১৫জনকে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

মঙ্গলবার (০১ মে) দুপুরে উপজেলার জাউয়া ইউনিয়নের দেবেরগাঁও গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র জাফরুল হাসান ও একই গ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র এমরান হোসেন পক্ষদ্বয়ের মাঝে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ১৫ রাইন্ড টিআর সেল ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে জাউয়া বাজারস্থ জাফরুল হাসান মালিকানাধিন তালহা টেইলার্সে গিয়ে দোকান কর্মচারী রুবেল মিয়ার সাথে চাকুরী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে এমরান হোসেন। এক পর্যায় দোকান মালিক জাফরুল হাসানও এমরান হোসেনের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জের ধরে দুপুরে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ডাকা-ডাকি করে উভয় পক্ষের লোকজন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ গোটা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিআর সেল ও ৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে।

প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে মধ্যস্থতাকারী ইউপি সদস্য, নারী-শিশুসহ অন্তত ৪৫ ব্যক্তি আহত হয়। গুরুতর আহত জাফরুল হাসান (৩০), আব্দুল্লাহ (২৫), শাহারিয়ার হাসান বাবলা (২৮), এমদাদ হোসেন (৩৮), আবিদ আলী (৪৫), তোয়াজ আলী (৪৫), আরাজ মিয়াফলু (৩৫) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন (১৮) রুবেল (১৮), আছমত আলী (১৮), জামাল হোসেন (৩৫), মঈনুল (২০), জয়নুল (১৮), শরাফুল ইসলাম(৪০), বদরুল ইসলাম(২৫)কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউপি সদস্য কাজী রুমেল মিয়া, এসএম মাহমুদ, আব্দুল কদ্দুছ সুমন, আঙ্গুর মিয়া, কামরুল ইসলাম (২৮), ইৎাজুল (১৮), সুজন (২৮), মাহবুবুর রহমা (১৯), আইনুল হোসেন (১৬), শাহজাহান (২০), ফজর আলী (৪৫), মাসুম হাসান (১৬), হিরন মিয়া (২০), মিরাশ আলী (৫০), সুন্দর আলী (৬০), মাহবুব হোসেন (২০), জিয়াউর রহমান (২০), হাসিনা বেগম (৪০), নুরুল ইসলাম (১৮), সুজন মিয়া (৩৫), আব্দুল হেকিম (৩৫), জাবেদ আহমদ (১৮), মিজান (২৫), শাকিল (১০), মারজান (২০), বদরুল ইসলাম (২০)সহ অন্যান্য আহতদের কৈতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে কৈতক হাসপাতাল থেকে সহিদ মিয়া, হাজী সুন্দর আলী, আব্দুল হান্নান, শাহ আলম, আব্দুল হেকিম, জলুর উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, জাবেদ মিয়া, মারজান, সুজন মিয়া, সুমন মিয়া, মুহিবুর রহমান, শামছুল হক, ইব্রাহিম আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মঈন উদ্দিন ১৫ রাউন্ড টিআরসেল ও গুলি ছুঁড়ার কথা স্বীকার করে জানান, সংঘর্ষে জড়িত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com