ছাতকে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, আহত দু’শতাধিক

প্রকাশিত: ২:০৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

ছাতকে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, আহত দু’শতাধিক

ছাতক প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকে এক মাদকসেবীর গালাগালকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর কয়েকদফা সংঘর্ষে ইয়াকুব আলী নামে এক ব্যাক্তি নিহত ও ব্যবসায়ী পথচারীসহ কমপক্ষে দুই শতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন।

 

বুধবার (০৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে ছাতক উপজেলার সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের গোবিন্দগঞ্জের সাদা সেতু (ব্রিজ) এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। রাতে গুরুতর আহত ২০ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

নিহত ইয়াকুব আলী উপজেলার ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের খুরশিদ আলীর ছেলে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সংঘর্ষে জড়িয়েপড়া দুই গ্রামবাসী ছত্রভঙ্গ করতে থানা পুলিশ কমপক্ষে ৩০ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। টানা প্রায় দু’ঘন্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে যান কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়াদের হাতে সাদা সেতু ও এর আশপাশে থাকা কয়েকটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ঘটনাও ঘটেছে।

 

বুধবার রাতে স্থানীয় সুত্রে ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাতকের লালপুর রেলওয়ে এলাকায় মঙ্গলবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় উপজেলার দিঘলী গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে ফয়সল আহমদ শিবনগর গ্রামের বেশ ক’জনকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ওই সময় ফয়সলকে গালিগালাজে উপজেলার শিবনগর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া বাঁধা দিলে ত্রিমুখী হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

 

বুধবার বিকেলে এর জের ধরে সিএনজি অটোরিকশাযোগে গোবিন্দগঞ্জ বাজারে যাবার পথে সাদাসেতু এলাকায় গাড়ী থেকে নামিয়ে সাজু মিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে ফয়সল ও তার সহযোগিরা। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন।

 

পরবর্তীতে এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় উপজেলার শিবনগর ও দিঘলী দুই গ্রামবাসী পৃথক জোঠ বেঁধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাদা সেতু এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টানা দু’ঘন্টা ব্যাপী উভয় গ্রামবাসীর মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা চলাকালে বেশ কয়েক রাউন্ড আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি বিনিময় হলে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।

 

সংঘর্ষে গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী, শাহনুর, ইকবাল, সুজন, শিপন, সাজু মিয়া, আওলাদ, সুমন, জাহির উদ্দিন, আব্দুল মজিদ, মঞ্জুর আলম, আহমদ আলীসহ ২০জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এছাড়া সংঘর্ষে আহত মোস্তফা মিয়া, জায়েদ, নাসির উদ্দিন , আলমগীর, ফরিদ, লায়েক জহির তোফায়েল, খুরশীদ, হারুনসহ অন্যদের সিলেট, ছাতক সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

 

সংঘর্ষে গুরুতর আহত উপজেলার শিবনগর গ্রামের খুরশিদ আলীর ছেলে ইয়াকুব আলী (৩০) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।

 

ছাতক থানার ওসি মো. মোস্তফা কামাল বললেন, আমিনুল ইসলাম উভয় পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে কমপেক্ষ পুলিশ ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও টিয়ারসেল ছোঁড়েছে। ওই ঘটনায় কোন পক্ষই আপাতত বুধবার মধ্যরাত অবধি থানায় কোন ধরণের লিখিত অভিযোগ করেননি বলেও জানান ওসি।

 

বুধবার রাতে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, গোবিন্দগঞ্জ পুলের মুখ ও আশপাশ এলাকায় বুধবার রাত ৮ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

 

বুধবার রাতে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান বিপিএম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com