প্রচ্ছদ

ঠুং ঠাং শব্দে ব্যস্ত সিলেটের কামারপাড়া

১১ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেষ মুহূর্তে ব্যস্ততায় বটেশ^র বাজারের কামার পট্টী।

আর মাত্র একদিন বাকি পবিত্র ঈদুল আয্হার। শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের কামাররা। গরমের তোয়াক্কা না করে আগুনের কাছাকাছি কাজ করছেন এ শিল্পীরা। দোকানের জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ, তবু থেমে নেই এ কাজ।

হাতুড়ির ঠুং ঠাং শব্দে দিনরাত সমান ব্যস্ততায় কামার শিল্পীরা। অধিক পরিশ্রম হলেও বছরের অন্য সময়ের চেয়েও বাড়তি রোজগারের আশায় ক্লান্তি ভুলে ব্যস্ত সিলেট সদর উপজেলাধীন বটেশ্বর বাজারের কামার পাড়া।

কাজের চাপে কামাররা কষ্ট করে বেশি পরিশ্রমে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করছেন, তাই খরচা একটু বেশি লাগলেও আত্মতুষ্টিতে ক্রেতারা। চাহিদা মেটাতে আগে থেকেই তৈরি করে রাখা ধারালো সরঞ্জামের বাজার অনেক জমজমাট। দাম নিয়ে খুব একটা অভিযোগ নেই ক্রেতাদের।

বটি, ছুরি, দা ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানগুলোর সামনে। ভেতরে চলছে কাজ। কেউ ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন দগদগে লাল লোহার খন্ড, কেউ দিচ্ছেন শাণ, কেউ কেউ কয়লার আগুনে বাতাস দিয়ে আগুন জ্বালাচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে এই ব্যস্ততা।

শনিবার (১০ আগস্ট) সরেজমিন সিলেট সদর উপজেলাধীন বটেশ্বর বাজারসহ বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

এনিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে। মিনহাজ মাহমুদ শাহিন নামে এক ক্রেতা বলেন, বছরের অন্যান্য সময় এই দা-ছুরিগুলো বাড়িতে ফেলে রাখা হয়। এতে লোহার তৈরি এসব জিনিসে মরিচা পড়ে যায়। কুরবানির সময়ই মূলত দা-ছুরিগুলো কাজে লাগে।

কামারপাড়ার নেপাল দেব বলেন, বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চলছে। বছরের অন্য সময়ে কাজ কম থাকে। তবে কুরবানির ঈদ এলে কাজের চাপ বেড়ে যায়। দিনরাত কাজ করেও রেহাই পাওয়া যায় না। নতুন দা-ছুরি কেনার সঙ্গে সঙ্গে লোকেরা পুরনো যন্ত্রপাতিও শাণ দিতে নিয়ে আসছেন।

শেষ মুহূর্তে ব্যস্ততায় বটেশ^র বাজারের কামার পট্টী।

কামার পট্টীর দোকানীরা জানালেন, এবার পশুর চামড়া আলাদা করার ছুরি (ছোট) ২৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা, মাঝারি ৪৫ টাকা থেকে ৭৫ টাকা এবং বড় ছুরি ৬৫ টাকা থেকে ১শ’ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। লম্বা ছুরি ১৫০ থেকে শুরু করে ৬শ’ টাকা, জবাই করার ছুরি আড়াইশ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা এবং চাপাতি সাড়ে ৩শ’ থেকে ৮শ’, ভোজালী ৩শ’ থেকে ২ হাজার টাকা, হাড় কাটার জন্য কুড়াল ১৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানালেন, কোরবানীর পশুর হাড় কাটতেই চাপাতি, ভোজালী ও কুড়াল বেশী ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া মাংস কাটতে কয়েক ধরনের দা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে লোহার বাটওলা দা, কাঠের বাটওলা দা, বটি দা বিক্রি হচ্ছে ২শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com