তিনি এখন মায়ের পাশে!

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০১৬

তিনি এখন মায়ের পাশে!

Arif20160329073316

সুরমা মেইল নিউজ : ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অসুস্থ মাকে দেখতে সিলেট নগরীর নয়সড়কস্থ মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল যান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ছেলেকে কাছে পেয়েই পরম মমতায় বুকে আগলে নেন মমতাময়ী মা। এ সময় মা আমিনা খাতুনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন আরিফ। হাসপাতালে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় দীর্ঘ ১৫ মাস কারাভোগের পর সোমবার কারামুক্ত হন সিসিক মেয়র আরিফ। কারামুক্ত হওয়ার পর পরই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৪ নম্বর কেবিনে ভর্তি হয়ে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার ভোর ৫ টায় অসুস্থ মাকে দেখতে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন আরিফ। সকালে সিলেটে পৌঁছে বাসায় বিশ্রাম নেন তিনি। এরপর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নগরের মিরবক্সটুলাস্থ মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে আসেন তিনি। এ সময় মা ছেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জানা যায়, বার্ধক্যজনিত কারণে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আমিনা খাতুন। প্রতি দিনই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ছেলে আরিফও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। মায়ের সঙ্গে তিনিও একই হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। এজন্য হাসপাতালটির ৪০৫ নং কেবিন আরিফুল হক চৌধুরীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ মার্চ হাইকোর্ট থেকে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ১৫ দিনের জামিন পেয়েছিলেন আরিফ। এরপর গত রোববার আরিফের নিজের অসুস্থতা এবং মায়ের অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে বিস্ফোরক মামলায়ও ১৫ দিনের জন্য জামিন পান।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের তৎকালীন মেয়র জিকে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে কিবরিয়া হত্যা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। পরদিন আরিফসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেন আরিফ। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন। কারাগারে থাকাকালীন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াসহ ৫ জন নিহত হন। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Flag Counter

আমাদের ভিজিটর সংখ্যা

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com