তিন মামলায় সিলেট কারাগারে সেই সাহেদ

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১

তিন মামলায় সিলেট কারাগারে সেই সাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে চেক ডিজঅনারের তিনটি মামলায় আলোচিত সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও, তার বিরুদ্ধে আরও একটি প্রতারণার মামলায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার পাথর ব্যবসায়ী ‘মাওলা স্টোন ক্রাশার মিল’র মালিক শামসুল মাওলা এ মামলাগুলো করেছেন। এছাড়াও সাহেদের নিরুদ্ধে প্রতারণার আরেকটি মামলা দায়ের করেন শামসুল মাওলা।

 

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাহেদ করিমকে এই তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী সিলেট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার।

 

তিনি বলেন, সাহেদের বিরুদ্ধে সিলেটের আদালতে চারটি মামলা দায়ের করেছিলেন ব্যবসায়ী শামসুল মাওলা। ব্যবসায়ী মাওলা সাহেদ করিমের কাছে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। সেই পাওনা টাকার বদলে সাহেদ করিম ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার তিনটি চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু মামলার বাদী টাকা পাননি। পরে তিনি চেক ডিজঅনার করে মামলা করেন।

 

তিনি আরও বলেন, ১০ লাখ টাকার একটি ভুয়া চেক দিয়ে (চেক নম্বর- ৯০২৬৪৬৩০) শামসুল মাওলার কাছ থেকে পাথর কিনে নিয়েছিলেন সাহেদ। পরবর্তী সময়ে ওই চেকটি অন্য একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতীয়মান হয়। এজন্য আদালতে মাওলা বাদী হয়ে আরো একটি প্রতারণা, জালিয়াতি ও আত্মসাৎ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জৈন্তাপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ৪ মার্চ সাহেদের বিরুদ্ধে সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেকের বিপরীতে তিনটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন সিলেটের ব্যবসায়ী শামসুল মাওলা। গত ৮ নভেম্বর সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের ওই মামলার শুনানিতে বাদী পক্ষের আইনজীবী সাহেদকে এই তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে ঢাকা থেকে মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সাহেদকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়।

 

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী শামসুল মাওলা বলেন, ঢাকায় গিয়ে সাহেদের সঙ্গে দেখা করলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য পাথর সরবরাহের বড় একটি কাজ পাইয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। ওই সময় সাহেদ নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পিএস বলেও পরিচয় দেন। এক পর্যায়ে তার কথায় বিশ্বাস করে ৩০ লাখ টাকার পাথর সরবরাহের চুক্তি করেন সাহেদ। পরে বিল আনতে গেলে তাকে ১০ লাখ টাকা করে ৩০ লাখ টাকার তিনটি চেক দেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Flag Counter

আমাদের ভিজিটর সংখ্যা

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com