দেশের সর্ববৃহৎ মিছাখালী সুনামগঞ্জে রাবার ড্যাম উদ্বোধন শনিবার

প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০১৬

দেশের সর্ববৃহৎ মিছাখালী সুনামগঞ্জে রাবার ড্যাম উদ্বোধন শনিবার

সুরমা মেইল নিউজ : সুনামগঞ্জে দেশের সর্ববৃহৎ মিছাখালী রাবার ড্যাম উদ্বোধন হচ্ছে শনিবার । অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এ রাবার ড্যাম উদ্বোধন করবেন। এ রাবার ড্যামের ফলে জেলার বৃহৎ করচার হাওর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আঙ্গুরালী হাওরের ৭ হাজার হেক্টর বোরো জমির ফসল অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের বাগগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল বাছির জানান, মিছাখালী রাবার ড্যাম র্নিমাণের ফলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আঙ্গুরালী ও করচার হাওরের ৭ হাজার হেক্টর বোরো জমির ফসল অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢলের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। একই গ্রামের মো. এরশাদ মিয়া জানান, মিছাখলী রাবার ড্যামের ফলে এখানে একটি ব্রিজ হওয়ায় এলাকালায় যোগাযোগ ব্যবস্থার এক অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে।

বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান জানান, রাবার ড্যাম নির্মাণের আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতি বছর এখানে বাধ দিত। পাহাড়ী ঢল বাধ ভেঙ্গে প্রতি বছরই আঙ্গুরালী ও করচার হাওরের বোরো ফসল তলি নিতো। এ বাধটিকে কৃষকরা আঙ্গুরালী হাওরের দু:খ বলেও অভিহিত করতো। এবার এখানে রাবার ড্যাম হওয়ার ফলে করচা ও আঙ্গুরালী হাওর পাহাড়ী ঢল অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রনজিত কুমার দেব জানান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিছাখালী এলাকায় ৩৭ কোটি টাকা ব্যায়ে ২২০ মিটার দীর্ঘ ও ৩ মিটার প্রসস্ত একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এ রাবার ড্যাম’র কারণে পাহ্ড়াী ঢল ও অকাল বন্যার হাত থেকে আঙ্গুরালী ও করচার হাওরের ৭ হাজার হেক্টর বোরো ফসল রক্ষা পেয়েছে। ফলে এ দু’টি হাওরের ৭ হাজার হেক্টর বোরো জমিতে প্রায় সাড়ে ৩১ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। শুধু তাই নয় এ সেতু কারণে মিছাখালী নদীর উভয় তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধনও তৈরী করেছে। এর সেতুর হওয়ার কারণে মিছাখালী এলাকার কৃষকদের পন্য বাজার জাত করতে অনেক সহজ হবে এবং হাওর এলাকার পিছিয়ে পড়া জনপদের বেকার যুকবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এ এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

রাবার ড্যাম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ জানান, এ রাবার ড্যামে যে ৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তা এক বছরের ফসল থেকে উঠে আসবে। তিনি বলেন, এ রাবার ড্যাম আগামী ৫০ বছর জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে এবং এলাকার কৃষকের মুখে হাসি ফুটাবে। তিনি আরো বলেন, এ এলাকার মানুষ এ ড্যামের রক্ষনা বেক্ষণ করবে এবং এর সুফল পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com