নায়ক সালমান শাহ’র ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯

নায়ক সালমান শাহ’র ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সুরমা মেইল ডেস্ক ::::: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দার নব্বই দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুদর্শন নায়ক সালমান শাহ। আজ শুক্রবার তার ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১১/বি, নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বাসার নিজ কক্ষে সালমান শাহকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সালমান শাহ আসল নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন।
সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন তিনি। প্রথম ছবিতেই দর্শকের মনে জায়গা করে নেন সালমান শাহ।

এদিকে সালমান শাহর মৃত্যুর পর তার বাবা একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। ওই মামলা প্রথমে রমনা থানা পুলিশ, পরে ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির তদন্ত করেন।

তদন্তকালে সালমান শাহর লাশ প্রথম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে, সালমান শাহর মৃত্যুক আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। পরে সালমান শাহর পরিবার ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি দিলে সালমানের মরদেহ কবর থেকে তুলে ফের ময়নাতদন্ত করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিবেদনে, লাশ অত্যধিক পচে যাওয়ার কারণে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৯৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির আত্মহত্যাজনিত কারণে সালমান শাহর মৃত্যু হয়েছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ওই প্রতিদেনের বিরুদ্ধে বাদী পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে নারাজি দেন। নারাজিতে তিনি সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, আবুল হোসেন খান, বাসার কাজের মেয়ে ডলি, মনোয়ারা বেগম, নিরাপত্তা কর্মী আবদুল খালেক, সামিরার আত্মীয় রুবি, এফডিসির সহকারী নৃত্য পরিচালক নজরুল শেখ ও ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত মর্মে উল্লেখ করেন।

নারাজির পর আদালত ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার মজিবুর রহমানের কাছে তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়। এ তদন্ত কর্মকর্তাও অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার এক পর্যায়ে ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই সালমানের বাবার ডিওএইচএসের (জোয়ার সাহারা) বাসায় রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ নামের যুবকের আগমন ঘটে। মিথ্যা পরিচয়ে ওই যুবকের বাসায় প্রবেশের অভিযোগে তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে একটি মামলা করা হয়।

ওই মামলায় রেজভীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে সালমান শাহ হত্যার কথা স্বীকার করে তার সহযোগী হিসেবে ডন, ডেভিড, ফারুক, আজিজ মোহাম্মাদ, সাত্তার, সাজু, সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা, সামিরার মা লতিফা হক লুসি ও রুবির নাম প্রকাশ করে। ১৯৯৭ সালের ২২ জুলাই আদালতে তার স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হয়।

পরে ওই মামলায় জামিনে গিয়ে পলাতক থাকা অবস্থায় রিজভীর সাজা প্রদান করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই সালমানকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়।

আদালত ১৯৯৭ সালের ২৭ জুলাই অপমৃত্যুর মামলা এবং ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলা একসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডির ওপর তদন্তভার হস্তান্তর করেন। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান প্রায় সাড়ে ৩ মাস তদন্তের পর ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যাই সমর্থন করা হয়। এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ফের নারাজি দাখিল করা হয়।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করা হলে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর দীর্ঘ এক যুগ মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তাধীন ছিল।

২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনেও সালমানের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন করেন। নারাজি আবেদনে আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা বলা হয়। আদালত নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।

র‌্যাবকে তদন্ত দেয়ার আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করেন। ওই বছরের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৬-এর বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে র‌্যাব মামলাটি আর তদন্ত করতে পারবে না বলে আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট লস্কার সোহেল রানা মামলাটি আবার তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।

অথচ মৃত্যুর আগের দিন অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ‘প্রেমপিয়াসী’ ছবির ডাবিং করতে এফডিসিতে যান সালমান শাহ। ওখানে এ ছবির নায়িকা শাবনূর আগে থেকেই ডাবিংয়ের জন্য অবস্থান করছিলেন।

এফডিসিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর সালমান তার বাবাকে ফোন করে বলেন, তার স্ত্রী সামিরাকে নিয়ে এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে আসার জন্য। ফোন পাওয়ার পরপরই সালমানের বাবা সামিরাকে নিয়ে এফডিসি আসেন। শ্বশুরের সঙ্গে সাউন্ড কমপ্লেক্সে এসে সামিরা দেখতে পান সালমান ও শাবনূর ডাবিং রুমে খুনশুটি করছেন। সালমানের ঘনিষ্ঠরা বিভিন্ন সময় বলেছেন, সালমান প্রায়ই শাবনূরের সঙ্গে এ ধরনের খুনশুটি করতেন সামিরাকে উত্তেজিত করে তোলার জন্য। এটা করে তিনি আনন্দ পেতেন।

কিন্তু সেদিনের বিষয়টি আনন্দময় ছিল না। সালমানকে শাবনূরের সঙ্গে খুনশুটি করতে দেখে রেগে যান সামিরা। সালমানের বাবা চলে যাওয়ার পর সামিরাও দ্রুত গাড়িতে ওঠেন। ‘অবস্থা জটিল’ বিষয়টি বুঝতে পেরে একই গাড়িতে ওঠেন সালমান শাহ ও চিত্রপরিচালক বাদল খন্দকার। কিন্তু গাড়িতে বসে সালমানের সঙ্গে কথা বলেননি সামিরা। তাকে বোঝাতে থাকেন বাদল খন্দকার।

গাড়ি এফডিসির গেট পর্যন্ত গেল সালমান প্রধান ফটকের সামনে নেমে যান। তার সঙ্গে বাদল খন্দকারও নামেন। সেখানে কিছুক্ষণ আড্ডাও দেন। অথচ কর্মজীবনের তিন বছরে একবারের জন্য গেটে আড্ডা দেননি সালমান। বিষয়টি তখনকার নিরাপত্তাকর্মীদের দৃষ্টি এড়ায়নি। তারা কানাঘুষাও করছিলেন এ নিয়ে। এরপর ডাবিং রুমে ফিরে গেলেও ঠিকমতো ডাবিং হয়নি।

ওইদিন রাত ১১টার দিকে নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বি-১১ নম্বর ফ্ল্যাটে সালমানকে পৌঁছে দিয়ে বিদায় নেন বাদল খন্দকার। সামিরাও তখন ঘরে। কিন্তু সালমানের সঙ্গে কোনো ধরনের কথা বলেননি তিনি। সাড়ে ১১টার দিকে বেডরুমে গিয়ে টিভি দেখেন সালমান। ১২টার দিকে তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। তিনি বাথরুমে গিয়ে কথা বলেন।

কথা বলা শেষে বেরিয়ে টিভি বন্ধ করে অডিও ক্যাসেট ছাড়েন। এ সময় আরও একটি ফোন আসে। এবার মুখ খোলেন সামিরা। সন্ধ্যার ঘটনা নিয়ে দু’জনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজিত হয়ে সালমান মোবাইল ফোন সেটটি ভেঙে ফেলেন। এতে সামিরা বেশ ক্ষুব্ধ হন। ব্যাগ গুছিয়ে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে ফুফুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে যান। সালমানের পিএ আবুলকে ইন্টারকমে কথা বলতে বলেন।

আবুল ইন্টারকমে অ্যাপার্টমেন্টের দারোয়ানকে গেট না খুলতে নিষেধ করেন। গেটে বাধা পেয়ে সামিরা আবারও ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন। তখন সালমান তাকে সকালে ফুফুর বাড়ি পৌঁছে দেবেন বলে কথা দেন। এরপর সামিরা বেডরুমে চলে যান।

৬ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই ‘তুমি শুধু তুমি’ ছবির শুটিং ছিল। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সালমান ঘুমাতে থাকেন। সকাল সাতটার দিকে সালমানের বাবা ছেলের ফ্ল্যাটে আসেন। সামিরা গেট খুলে দেন। সালমানের বাবা বলেন- ‘মা, ভাই ও তাকে নিয়ে সিলেটে যাবেন।’ এ সময় সিদ্দিক নামের এক প্রযোজকও আসেন। কিন্তু সালমান ঘুম থেকে না ওঠায় কিছুক্ষণ অবস্থানের পর সালমানের বাবা ও সিদ্দিক চলে যান।

এরপর সামিরা তার বেডরুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। বেলা ১১টার দিকে সালমান ঘুম থেকে উঠে কাজের মেয়েকে ডেকে পানি ও চা পান করেন। কিছুক্ষণ পর ড্রেসিংরুমে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা লক করে দেন। ঢোকার আগে সহকারী আবুলকে বলেন- ‘আমাকে যেন কেউ ডিস্টার্ব না করে’। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও ড্রেসিংরুম থেকে সালমানকে বের না হতে দেখে আবুল চিন্তায় পড়ে যান। সাড়ে ১১টার দিকে সামিরাকে জাগিয়ে বলেন- অনেকক্ষণ আগে ড্রেসিংরুমে ঢুকলেও তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

সামিরা দরজার ডুপ্লিকেট চাবি খুঁজে বের করে ড্রেসিং রুমের দরজা খুলে দেখেন ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আছেন সালমান! সঙ্গে তখন আবুলও ছিল। তাদের ডাকে পাশের বাসার কাজের মেয়েও উপস্থিত হয়। এ সময় সামিরা ও সালমানের দুই কাজের মেয়ে সালমানকে উঁচু করে ধরেন। পাশের বাসার কাজের মেয়ে দড়ি কেটে সালমানকে নামিয়ে আনেন। দড়িটি ছিল ব্যায়ামের যন্ত্র থেকে বের করা। ধারণা করা হয়, সালমান ফ্যান পর্যন্ত ওঠেন ঘরে থাকা একটি কাঠের মই দিয়ে।

ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে সালমানকে নামানোর পর পাশের বাসার কাজের মেয়ে বলে- ‘শরীর এখনও গরম। উনি মরেননি।’ তখন মাথায় ও গায়ে তেল মালিশ করা হয়। ততক্ষণে সামিরা তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী রুবিকেও খবর দেন। পাশেই তার বিউটি পার্লার। তিনিও চলে আসেন। রুবি এসে সালমানের শুশ্রূষায় অংশ নেন।

খবর পেয়ে হাউজিং কমপ্লেক্সের ম্যানেজারও আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুটিংয়ের খবর নিতে প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম এসে সালমান শাহকে মরার মতো পড়ে থাকতে দেখে সালমানের বাবাকে খবর দেন। খবর পেয়ে সালমানের বাবা, মা ও ছোট ভাই ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে।

তারা গিয়ে সালমানকে হাসপাতালে দ্রুত নেয়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু এ সময় লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আরও ১৫ মিনিট দেরি হয়। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে দুই নতুন মুখ সালমান শাহ ও মৌসুমীকে উপহার দেন। ছবিটি বলিউডের ‘কেয়ামত ছে কেয়ামত তাক’ ছবির বাংলাদেশি ভার্সন।

এরপর সালমানের সঙ্গে মৌসুমীকে দেখা যায় ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অন্তরে অন্তরে ও ‘স্নেহ’ ছবিতে। ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ‘দেনমোহর’ ছবিতে সালমানের বিপরীতে মৌসুমীকে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বও ছিল। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে মৌসুমীর সঙ্গে আর সালমানকে দেখা যায়নি।

ঢাকাই সিনেমার অন্যতম সফল জুটি সালমান শাহ ও শাবনূর। প্রয়াত চিত্রপরিচালক জহিরুল হক ১৯৯৪ সালে সালমানের সঙ্গে শাবনূরকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘শুধু তুমি’। এ ছবির সাফল্যের পর শাবনূরের সঙ্গে সালমানের জুটি হয়ে যায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো। এরপর সালমানের বিপরীতে শাবনূর অভিনয় করেন ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু, ‘বুকের ভিতর আগুন’ ছবিতে। সালমানের জীবনের শেষ ছবিও ছিল শাবনূরের সঙ্গে।

এ নায়কের মৃত্যুর পর আর কারও সঙ্গেই যুৎসই জুটি গড়ে ওঠেনি শাবনূরের। মৃত্যুর আগে সালমানের সঙ্গে শাবনূরকে নিয়ে শুটিং চলছিল এবং তারা চুক্তিবদ্ধ ছিলেন ‘নয়নমণি’, ‘তুমি শুধু তুমি’, ‘মন মানে না’, ‘কুলি’, ‘অধিকার চাই’, ‘মধু মিলন’, ‘কে অপরাধী’, ‘শেষ ঠিকানা’ ছবিগুলোর। সালমানের মৃত্যুর পর এসব ছবিতে রিয়াজ, ওমর সানী, অমিত হাসানকে দেখা যায়।

১৯৯৪ সালের শেষর দিকে নির্মিত জীবন রহমান পরিচালিত ‘প্রেম যুদ্ধ’ ছবিতে সালমানের বিপরীতে অভিনয় করেন লিমা। পরের বছর দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘কন্যাদান’ ছবিতেও দেখা যায় এই জুটিকে।

চিত্রনায়ক নাঈমের সঙ্গেই ছিল শাবনাজের জুটি। কিন্তু ১৯৯৫ সালে হাফিজউদ্দিন ‘আঞ্জুমান’ ছবিতে সালমানের বিপরীতে শাবনাজকে কাস্ট করেন। ফলাফল, সুপারহিট। পরবর্তীতে ‘আশা ভালোবাস’ ও ‘মায়ের অধিকার’ ছবিতেও সালমানের বিপরীতে শাবনাজকে দেখা গেছে।

১৯৯৬ সালে মালেক আফসারী পরিচালিত ‘এই ঘর এই সংসার’ ছবিতে সালমানের বিপরীতে অভিনয় করেন নবাগতা বৃষ্টি। এটিই ছিল এ নায়িকার প্রথম ও শেষ ছবি। রানা নাসের পরিচালিত ‘প্রিয়জন’ ছবিতে সালমানের বিপরীতে অভিনয় করেন শিল্পী। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালে। এ ছবিতে চিত্রনায়ক রিয়াজকেও দেখা গেছে।

ছটকু আহমেদের পরিচালনায় ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ ছবিতে সালমানের বিপরীতে অভিনয় করেন শাহনাজ। ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিটি সালমানের ক্যারিয়ারের একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। কাজী মোর্শেদের পরিচালনায় ‘শুধু তুমি’ ছবিতে সালমানের বিপরীতে অভিনয় করেন শ্যামা।

এ ছাড়া ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ ছবিতে শাবনাজের পাশাপাশি সহনায়িকা হিসেবে সাবরিনা ও ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিতে শাবনূরের পাশাপাশি সহনায়িকা হিসেবে কাঞ্চিকেও দেখা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Flag Counter

Ad area

 

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com