পদ্মায় হেলে পড়ল সরকারি বিদ্যালয়-কাম-সাইক্লোন শেল্টার

প্রকাশিত: ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

পদ্মায় হেলে পড়ল সরকারি বিদ্যালয়-কাম-সাইক্লোন শেল্টার

সুরমা মেইল ডেস্ক ,

 

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় কাঁঠালবাড়ি সরকারি বিদ্যালয়-কাম-সাইক্লোন শেল্টার ভবনটি হেলে পড়েছে।

 

পদ্মার অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চরাঞ্চলে নদীভাঙনের ব্যাপকতা বেড়েই চলছে। আতঙ্কে রয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

 

জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে শিবচরের চরাঞ্চল কাঁঠালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির দ্বিতল ভবনের একপাশ আকস্মিক ধসে পড়ে। ধসেপড়া স্কুল ভবনটির একদিকে বাঁকা হয়ে পানিতে হেলে পড়েছে। নিজস্ব উদ্যোগে জিওব্যাগ ফেলে প্রাণপণ চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হলো না।

 

অনিশ্চিত হয়ে গেল বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াইশ ছেলেমেয়ের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ।

 

এ ছাড়া ভয়াবহ ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে বন্দরখোলা কাজিরসুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ চরের চার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ। চরাঞ্চলে জিওব্যাগ ডাম্পিং চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

বিদ্যালয়ের সভাপতি জুলহাস বেপারি জানান, পদ্মার পানি নামতে গিয়ে একটি খালের পাশের শিবচরের চরাঞ্চলে মঙ্গলবার বিকালে কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৭৭নং কাঁঠালবাড়ি সরকারি বিদ্যালয়-কাম-সাইক্লোন শেল্টার ভবনটির বৃহৎ অংশ বিলীন হয়।

গত কয়েক দিন আগে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বন্দরখোলা ইউনিয়নের নুরুদ্দিন মাদবরকান্দি এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন, কাজিরসুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চরাঞ্চলে নদীভাঙনের ব্যাপকতা বেড়েই চলছে। পদ্মা তীরবর্তী উপজেলার বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ি ও চরজানাজাতে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আড়িয়াল খাঁ তীরবর্তী সন্ন্যাসীরচর, শিরুয়াইল, নিলখী ও বহেরাতলা দক্ষিণেও নদীভাঙন ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

 

 

সরকারি হিসাবে নদীতে বিলীন হয়েছে চার শতাধিক ঘরবাড়ি বলা হলেও এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এসব এলাকায় খোলা ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় তিন হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

 

পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে মঙ্গলবার বিকালে কাঁঠালবাড়ি সরকারি বিদ্যালয়-কাম-সাইক্লোন শেল্টার ভবনটির বৃহৎ অংশ বিলীন হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ২৭২ শিক্ষার্থী রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বিদ্যালয়টি ভাঙনঝুঁকিতে থাকায় ভাঙন প্রতিরোধে গত শুক্রবার বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষকবৃন্দের উপস্থিতিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হয়।

 

তবে তীব্র স্রোতের কারণে বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুর্গত এলাকায় চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৫০০ পরিবারে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।

 

কাঁঠালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা নাসিমা আক্তার জানান, জিওব্যাগ ফেলে বিদ্যালয়টি রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোতের কারণে আর টিকে থাকল না।

 

শিবচর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার বিকালে আকস্মিক ভেঙে পড়ে ৭৭নং কাঁঠালবাড়ি সরকারি বিদ্যালয়-কাম-সাইক্লোন শেল্টার ভবনটির বৃহৎ অংশ। এ ছাড়া গত কয়েক দিন আগে বন্দরখোলা ইউনিয়নে একটি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে গেছে। পাশেই কাজিরসুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

 

শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) বিএম আতাহার হোসেন জানান, একটি পুকুরের পাশের খাল দিয়ে প্রবল বেগে পদ্মার পানি নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের কারণে খাল ভেঙে প্রশস্ত হয়। তাই কাঁঠালবাড়ি সরকারি বিদ্যালয়-কাম-সাইক্লোন শেল্টার ভবনের বৃহৎ অংশ হেলে পড়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com