পদ্মা সেতু কারো একক সম্পত্তি নয় : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২২

পদ্মা সেতু কারো একক সম্পত্তি নয় : মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
মির্জা ফখরুল বলেন,পদ্মা সেতুকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে। তবে পদ্মা সেতু কারো একক সম্পত্তি না। সম্মিলিত রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় এটি তৈরী হয়েছে।

 

রোববার (৫ জুন) ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের দ্বিতল ভবনের আধুনিক ভিআইপি হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ দাবি করেন।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর একটা ভয়ংকর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য সিপাহী জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখনকার হাতিয়ারের কথাকেই মিন করা হয়। যদিও এ কথাগুলো আমরা বলিনি। আমাদের দলের কথা নয়। যদি কেউ বলে থাকে, তারা কিভাবে বলেছে আমরা জানিনা। ৭৫ এর হাতিয়ার বলতে কোন খারাপ কিছু, বা কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার কথা মিন করা হয়নি।

 

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার নেই। এখানে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নেই। এখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বিনষ্ট হয়েছে। একের পর এক যে আইনগুলো তৈরী করা হচ্ছে সেখানে মুক্ত স্বাধীনতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও সংকুচিত করা হচ্ছে।

 

কুমিল্লায় বিএনপির এক নেতানের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্ট এর কারণ ও উদ্দেশ্য টা কি? কারণটা কি? হচ্ছে এর উল্টোটা। এটার ফলে সাধারণ মানুষকে কথা বলার কারনে, তার মতামত প্রকাশ করার কারনে এই আইনের আওতায় এনে চরমভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। সংবাদকর্মী আইনের ব্যাপারে তিনি বলেন, এই আইনটি আরও ভয়াবহ। আজকে ভয়াবহ ভাবে সংবাদপত্রের কন্ঠ, সাংবাদিকদের কন্ঠ, মুক্ত বাক স্বাধীনতা পুরোপুরীভাবে কোজ হয়ে গেছে। এটা আমরা চাই না। আমরা চেয়েছিলাম একটা মুক্ত দেশ, মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ। যেখানে মানুষের স্বাধীনতা থাকবে। একদিকে যেমন স্বাধীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা হবে। সকল মতামতের ভিত্তিতে চলবে।

 

সীতাকুণ্ড অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দায় সম্পূর্ণ সরকারের জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটি একটি ভায়াবহ ঘটনা। এই বিষয়ে আমরা শোক জানিয়েছি এবং আমরা অনেক ক্ষুদ্ধ। একটি কনটেইনার পোর্টে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে তা ছিলোনা।

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পদ্মা সেতু তো কারও পৈত্রিক ব্যাপার না। এটা রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় হচ্ছে। পদ্মা সেতু নিয়ে বিভিন্ন রকম কথা বলে দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংকটটা পদ্মা সেতু নয়। সংকটটা আমার অধিকার। ভোটের অধিকার। সংকট হচ্ছে আমার বিচার না পাওয়া। সংকটটা হচ্ছে আমাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেওয়া। এ বিষয়গুলোতে আমাদের সংকট। এগুলো নিয়ে আমরা সাধারণ মানুষকদের একত্রিত করার চেষ্টা করছি। দেশকে, জনগণকে, একত্রিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সহ সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, জেলা যুবদলের সভাপতি চৌধুরী মাহেবুল্লাহ আবু নুর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েসসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠের নেতৃবৃন্দ।


সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com