পুনরুদ্ধার হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় সিলেটি বর্ণমালা ‘নাগরি লিপি’

প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২১

পুনরুদ্ধার হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় সিলেটি বর্ণমালা ‘নাগরি লিপি’

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটি ভাষার বিলুপ্তপ্রায় বর্ণমালা ‘নাগরি লিপি’ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চৌদ্দ শতকের শুরুর দিকে স্বতন্ত্র এ লিপি উদ্ভবের পর রচিত হয়েছে দুই শতাধিক গ্রন্থ। যার মধ্যে রয়েছে মূল্যবান পুঁথি সাহিত্য, কবিতা ও গান।

 

সিলেটি ভাষার ‘নাগরি লিপি’কে রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার এ উদ্যোগ নিয়েছে মাস্টারপিস বাংলাদেশ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তত্ত্বাবধানে পাঁচ মাস মেয়াদি প্রকল্পটি গ্রহণ করে সিলেট বিভাগের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

 

সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গ্রহণ করা এ প্রকল্পে সিলেটি ভাষা ও ‘নাগরি লিপি’ ছাড়াও মণিপুরী ও খাসিয়া ভাষার সচেতনতা নিয়েও কাজ করেছেন উদ্যোক্তারা। ‘নাগরি লিপি’ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই শেষে সিলেটের বেশ কয়েকটি কলেজের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের প্রকল্পে সম্পৃক্ত করা হয়েছে শুরু থেকেই। কয়েকটি ধাপে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মধ্যে থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করে। নাগরি ভাষার প্রতি উৎসাহ বাড়াতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সনদ ও প্রাইজমানি দেওয়া হয়।

 

বুধবার বিকেলে শহরের মুসলিম সাহিত্য সংসদ অডিটোরিয়ামে মাস্টারপিস বাংলাদেশ ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে পাঁচ মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণের সমাপনি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়েছে। বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুস শুকুর বচ্চনের সভাপতিত্বে সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন  শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ট্রেজারের প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম।

 

প্রকল্পের সমন্বয়ক ও মাস্টারপিস বাংলাদেশের সহযোগী সমন্বয়ক জামিল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাবিপ্ররবি বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল করিম, সহযোগী অধ্যাপক ড. মস্তাবুর রহমান, নাগরি গবেষক ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জেমস লয়েড উইলিয়ামস, নাগরি গবেষক ও লন্ডন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. স্যু লয়েড উইলিয়ামস, বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের সভাপতি এ.কে. শেরাম প্রমুখ।

 

প্রকল্পের সমন্বয়ক ও মাস্টারপিস বাংলাদেশের সহযোগী সমন্বয়ক জামিল হোসেন বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে সিলেটি ‘নাগরি লিপি’র পাশাপাশি আমরা আরো দুটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভাষার সচেতনতা নিয়ে কাজ করেছি। এ প্রকল্পে ইউএনডিপি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে। প্রকল্পের আওতায় পাঁচ মাস মেয়াদি তিনটি ভাষার সচেতনতা বৃদ্ধিতে সিলেট বিভাগের তিন জেলার ৫২০ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক ও ৪ জন বিশেষজ্ঞ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com