পৌরসভা নির্বাচন: সোমবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রচার-প্রচারণা

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৫

পৌরসভা নির্বাচন: সোমবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রচার-প্রচারণা

election_29240

 

সুরমামেইল ডটকম: পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা আজ সোমবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগেই শেষ হবে সব ধরণের প্রচারণা। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর (বুধবার) দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। এতে মেয়র পদে ৯ শতাধিক এবং কাউন্সিলর পদে ১ হাজার ২০০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ১৯টি দল মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছে। এ উপলক্ষে ওই দিন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রায় সোয়া দুই কোটি ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের উপকরণও পাঠানো হয়েছে পৌর এলাকাগুলোতে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তাদেরও প্রস্তুতি সম্পন্ন।

প্রায় সাত বছর পর এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্তত ১৯টি রাজনৈতিক দল নিজস্ব প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মেয়র পদে ৯৪৫ জনসহ মোট ১২ হাজারেরও বেশি প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও মাঠে নামানো হয়েছে ৭০ হাজারের বেশি ফোর্স। এছাড়া ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে আরও ৭০ হাজার ফোর্স। বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ব্যাটালিয়ন আনসার- সব মিলিয়ে দেড় লাখের মতো ফোর্স নিয়োজিত থাকবে ভোটের দিন।

এছাড়াও মাঠে থাকছেন ১ হাজার ২০৪ জন নির্বাহী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া আজ মধ্যরাতের মধ্যে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে এলাকায় মাইকিং করে জানিয়ে দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২৮ তারিখ মধ্যরাত থেকে সব পৌরসভাতে বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একইভাবে রবিবার মধ্যরাতের পর থেকে ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩০ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত ১২ ধরনের যানবাহন চলাচলও বন্ধ থাকবে।

নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন উপলক্ষে পুরো প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৩০ ডিসেম্বর উৎসবমূখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পৌর এলাকাগুলোর মোড়ে মোড়ে বসানো হবে নিরাপত্তা চৌকি। নিয়মিত চলবে র‌্যাব ও বিজিবির টহল।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ধরতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপির ১ হাজর ১২১, আওয়ামী লীগের ৫৬১, জামায়াতের ২১১, জাতীয় পার্টির ৪, পিসিপি’র ১, জেএসএস’র ১০ এবং অন্যান্য ১২১ জন সন্ত্রাসী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এদের আশ্রয়দাতা বা গডফাদার রয়েছেন ৬৩৭ জন। এদের মধ্যে বিএনপির ৩১২, আওয়ামী লীগের ২১১, জামায়াতের ৭৭, পিসিপি’র ১, জেএসএস’র ১ ও অন্যান্য ৩৫ জন। যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকি। যারা সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটপ্রদান থেকে বিরত রাখতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com