ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের বড় হার

প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২২

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের বড় হার

খেলাধুলা ডেস্ক :
প্রথম ইনিংসে ছয় ব্যাটারে শুন্য রানে আউট। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ ব্যাটার এক অঙ্কের কোটা পেরুতে পারেননি, ত্রিশ উর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন মাত্র তিন ব্যাটার। ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের বড় হার সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। স্বাগতিক উইন্ডিজরা দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে লিড নিয়েছে ১-০ ব্যবধানে।

 

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ১০৩ রানের জবাবে স্বাগতিক উইন্ডিজ নিজেদের প্রথম ইনিংসে করে ২৬৫ রান। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় ২৪৫ রানে। ৮৮ রানের টার্গেট তিন উইকেট হারিয়ে টপকে যায় ব্র্যাথওয়েটের দল।

 

৮৪ রানের টার্গেটে খেলতে নামা উইন্ডিজরা তৃতীয় দিন বিকেলে কিছুটা বিপাকে পড়ে। তরুণ পেসার খালেদ আহমদের বোলিং তোপে মাত্র ৯ রানের মধ্যেই হারায় তিন উইকেট। দলীয় ১ রানে প্রথম উইকেটে ওপেনার ব্রাথওয়েটকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন খালেদ। ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলে উইকেট শিকারের পর ওভারের শেষ বলে দলীয় ৩ রানের মধ্যে ফিরিয়ে দেন রয়ম্যান রেফেয়ারকে। ২ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি এই ব্যাটার।

 

তিন রানের মধ্যে দুই উইকেট হারানো স্বাগতিকরা তৃতীয় উইকেট হারায় দলীয় ৯ রানে। বল হাতে দুর্দান্ত হয়ে উঠা খালেদ নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসের চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে সাজঘরে ফেরত পাঠান বোনারকে। ৩ উইকেটে ৪৯ রানে দিন শেষ করা উইন্ডিজের দুই অপরাজিত ব্যাটার ব্ল্যাকউড ও জন ক্যাম্পবল আজ চতুর্থ দিন সকালেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৫৮ রানে ক্যাম্পবেল ও ২৬ রানে ব্ল্যাকউড অপরাজিত থাকেন।

 

বাংলাদেশের হয়ে খালেদই ৩টি উইকেট শিকার করেন।

 

এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ২৬৫ রানেই গুটিয়ে যায়। পিছিয়ে পড়া ব্যাটিংয়ে নামা টাইগাররা টপঅর্ডারের ব্যর্থতায় ডুবে। শতরানেই পাঁচ উইকেট হারানো সাকিবের দল সপ্তম উইকেটে ১২৩ রানের জুটিতেই আড়াইশো পার করে। সোহানকে নিয়ে দায়িত্বশীল এই জুটি গড়েন অধিনায়ক সাকিব। এ দুই হাফ সেঞ্চুরিয়ান পরপর ফিরে গেলেই বাংলাদেশের লিড বড় করার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়।

 

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটাররা ব্যর্থতার পরিচয় দেন। দলীয় ২৩২ রানে ব্যক্তিগত ৬৩ রানে সাকিব ফিরে গেলে ভাঙে তাদের জুটি। ৬ চারে ৯৯ বলে নিজের ইনিংসটি সাজান সাকিব। তার বিদায়ের পর সোহানও বেশিক্ষণ টিকেননি। দলীয় ২৩৮ রানে অষ্টম উইকেটে সাজঘরে ফিরেন সোহান। ১১ চারে ১৪৭ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। এরপর মুস্তাফিজ ৭ ও এবাদত ১ রানে প্যাভেলিয়নের পথ ধরলে বাংলাদেশ থামে ২৪৫ রানে। তামিমের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান। ৪২ রান করেন জয়। বলার মতো রানের দেখা পাননি অন্য কোনো ব্যাটার।

 

উইন্ডিজের হয়ে কেমার রোচ ৫টি ও জোসেপ ৩টি করে উইকেট লাভ করেন।

 

এর আগে বাংলাদেশের করা ১০৩ রানের জবাবে উইন্ডিজরা ২৬৫ রান তুলে। অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েট ও ব্ল্যাকউডের ব্যাটে লিড নেয় স্বাগতিকরা। ইনিংস সর্বোচ্চ ৯৪ রান করেন স্বাগতিক অধিনায়ক। ৬৩ রান করেন ব্ল্যাকউড। ৩৩ রান আসে বোনারের ব্যাট থেকে। ২৪ রান করেন ক্যাম্পবেল।

 

বাংলাদেশের হয়ে মিরাজ ৪টি, এবাদত ও খালেদ ২টি করে উইকেট লাভ করেন।

 

এর আগে অ্যান্টিগা টেস্টে কোনোমতে একশ পার করে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৩২.৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০৩। দারুণ চারে ৬৫ বলে ফিফটি হাঁকান সাকিব আল হাসান। এর আগে ৬ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশনে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। এক রান যোগ করেই মেহেদী হাসান মিরাজ উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন জেইডেন সেলেসের বলে। এরপর ফিরেছেন মুস্তাফিজুর রহমানও। এবাদত হোসেনকে নিয়ে ফিফটি হাঁকান সাকিব।

 

সাকিবের টেস্টে ২৮তম আর উইন্ডিজের সাথে নবম ফিফটি এটি। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৬টি চার ও ১টি ছয়ে। হাফ সেঞ্চুরির পর অবশ্য বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি তিনি। আলজারি জোসেফের ওপর চড়াও হতে গিয়ে লং অনে সীমানার কাছে ক্যাচ দেন রোচের হাতে। এর দুই বল পর জোসেফ খালেদের উইকেট তুলে নিলে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১০৩ রানে।

 

এর আগে চোট কাটিয়ে শেষ মূহুর্তে উইন্ডিজ দলে সুযোগ পাওয়া কেমার রোচের অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বলে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন মাহমুদুল হাসান জয়। শূন্য রানে ফিরেন এই ওপেনার। পরের ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন রোচের বলে। সরাসরি বোল্ড হন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

 

মুমিনুল হক দাঁড়াতেই পারেন নি উইকেটে। ক্যারিবিয় পেসার জেইডেন সিলসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা বাংলাদেশকে একটু স্থির করার চেষ্টা করেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। এরপর অহেতুক বল খেলতে গিয়ে উইকেট দেন তামিম। আলজারি জোসেফের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

 

নিজের প্রথম ওভারে করতে এসেই কাইল মায়ার্স নেন জোড়া উইকেট। তাঁর বলে কট-বিহাইন্ড লিটন। এরপর শট না খেলে এলবিডব্লু হন নুরুল হাসান। লাঞ্চের আগে অধিনায়ক সাকিব ও মিরাজের ব্যাটে বিপর্যয় সামাল দিতে লড়েছেন। এরপর অবশ্য আর বড় স্কোর হয় নি সফরকারীদের।

 

উইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট করে নিয়েছেন জোসেফ-সিলস। এ ছাড়া ২টি করে উইকেট নেন কেমার রোচ ও কাইল মায়ার্স।


সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com