ভূয়া লন্ডনী কন্যার ফাঁদে নবীগঞ্জের যুবক হারালেন ৫ লক্ষ টাকা!

প্রকাশিত: ১:০১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

ভূয়া লন্ডনী কন্যার ফাঁদে নবীগঞ্জের যুবক হারালেন ৫ লক্ষ টাকা!
ভূয়া লন্ডনী কন্যা রিমা আক্তার রিতা।

 

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি : ভূয়া লন্ডনী কন্যা সেজে ফেইসবুকের মাধ্যমে নতুন প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে রিমা আক্তার রিতা নামের এক তরুণী। নানা সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে ফেসবুকে লন্ডনী কন্যা পরিচয়ে বিভিন্ন যুবকদের আর্কষণ করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে ধনাঢ্য পরিবারের যুবকদের সাথে প্রেমে সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণা করে চলেছে ওই তরুণী। হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা! একের পর এক বিয়ে খেলায় মেতে উঠেছে রিমা। এখন পর্যন্ত সে ১০টি বিয়ের অভিযোগ থাকলেও ৩টি বিয়ের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

১ম ও ২য় স্বামীর বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা করেছে রিমা। লন্ডনী কন্যা সেজে বিয়ে করে ২ মাসের অন্ত:সত্বা অবস্থায় আত্মগোপন রয়েছেন তিনি।

 

মামলা ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলা সদরের সোনাপুর গ্রামের তেরা মিয়ার কন্যা রিমা আক্তার রিতা লন্ডনী কন্যা সেজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও মোবাইল ফোনে মাধ্যমে বিভিন্ন যুবকদের সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তুলে।

 

এরপর ফেইসবুক সম্পর্ক গড়ে তুলে নবীগঞ্জের মিঠাপুর গ্রামের এক ধনাঢ্য যুবক মৌলভীবাজার শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়সর আহমদ।

 

এর সাথে মোবাইল ফোন ও যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লন্ডনী কন্যা রিমা আক্তার রিতার ফোনে আলাপ ও সরাসরি দেখা স্বাক্ষাত শুরু হয়। এতে প্রেমিক ফয়সর আহমদ রিতার প্রেমে মুগ্ধ হয়ে পড়েন।

 

এক পর্যায়ে এ বিষয়টি লন্ডনী কন্যার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে জানাযানি হয়। পরে দু’পক্ষের সম্মতিক্রমে লন্ডনী কন্যা পরিচয়দারী রিমার মা পিয়ারা বেগম, মামা ফারুক মিয়া ও জাবেদ মিয়ার মাধ্যমে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হয়। বিয়ের পূর্বেই লন্ডনী কন্যার আত্মীয়-স্বজনরা প্রেমিক ফয়সর আহমদকে লন্ডন নেওয়ার খরচ বাবৎ ১৫ লক্ষ টাকা দাবী করেন। এতে প্রেমিক ফয়সর বিয়ের আগেই নগদ ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করেন।

 

পরে গত জানুয়ারী মাসের ৯তারিখ সিলেট নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ১লক্ষ টাকা দেনমহর স্বাবস্ত করে ফয়সর আহমদ ও রিমার বিবাহ হয়।

 

এরপর শশুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে নব-দম্পত্তির হানিমুনের করেন। কিছুদিন পর হঠাৎ করে লন্ডনী কন্যা রিতা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে স্বামী মৌলভীবাজার শহরের শ্রীমঙ্গল রোডের একটি ডায়গনিস্টক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানের পরিক্ষা-নিরিক্ষার পর ২মাসের অন্ত:সত্বা ধরা পড়ে।

 

এতে স্বামী ফয়সর আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। এর কিছুদিন পর চলতি বছরের ১৪ই মার্চ ফয়সর তার স্ত্রীর মুটো ফোনে বার বার কল দিলে সে মোবাইল রিসিভ না করলে ফয়সর তার শশুর বাড়ি মৌলভীবাজার সোনাপুরে যান। সেখানে তার স্ত্রীকে না পেয়ে ফয়সর তার শাশুরিকে রিমার কথা জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন রিমা তো বাড়িতে নেই। আমরা তাকে খুঁজে পাচ্ছিনা। এ কথা শুনে স্বামী ফয়সর হতাশ হয়ে পড়ে।

 

পরে ফয়সর আহমদ এলাকার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, রিমা আক্তার রিতা কোন লন্ডনী কন্যা নয়। সে লন্ডনী কন্যা সেজে বিভিন্ন যুবকদের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে এসব করছে। এ খবরে স্বামী ফয়সর আহমদ আরো বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আবারও ফয়সর তার শশুর বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে রিমার আত্মীয়-স্বজনদের সাথে লন্ডন নেওয়ার বাবৎ যে ৫ লক্ষ টাকা সে দিয়েছিল তা ফেরত চাইলে তারা ফয়সরকে শান্তনা দিয়ে বলেন, তুমি এ বিষয়টি কাউকে জানিওনা। তুমার টাকা আগষ্ট মাসের ৩১ তারিখ আমরা দিয়ে দেব। এতে বেচারা স্বামী নিশ্চুপ হয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।

 

তাদের কথা অনুযায়ী তারিখ মতো টাকা না পাওয়ায় জন্য আবারও ফয়সর আহমদ ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ মুরব্বিয়ানদের নিয়ে তাদের বাড়িতে গেলে নগদ ৫ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে আত্মীয়-স্বজন মারমূখি উঠে।

 

এ বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ভূয়া লন্ডনী কন্যার আত্মীয়-স্বজনরা টাকা আত্মসাতের জন্য নানা পায়তারা শুরু করে। এক পর্যায়ে ভূয়া লন্ডনী কন্যাকে আড়াল করে একের পর এক মিথ্যা মামলা করে। পরে ফয়সর আহমদ জানতে পারে এর আগেও রিমার বিয়ে হয়েছিল। সেই স্বামীর উপরও রিমার মামলা আছে।

 

পরে ফয়সর আহমদের স্ত্রী ও তার আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার খবর পেয়ে আসামীরা বাদী মামলা তুলে নেওয়ার জন্য এফ আহমদকে হুমকি দেয়।

 

এমন কথা শুনে বাদী মৌলভীবাজার মডেল থানায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারন ডায়রি করেন। ডায়রী নং-২৫৩।

 

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন মোবাইল ফোনে প্রেমের সর্ম্পক স্থাপন করে ভূয়া লান্ডনী কন্যা রিমা আক্তার রিতা মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার জায়ফর নগর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের আতিকুর রহমান এর পুত্র আরিফ রহমানকেও বিয়ে করে।

 

রিমা বিগত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৩ তারিখ মৌলভীবাজার নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকার দেন মহরে রিমা ও আরিফ বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের প্রায় সাড়ে ৩ মাসের মাথায় রিমা আক্তার রিতা বাদী হয়ে আরিফ রহমানের উপর যৌতুক আইনের ২ লক্ষ টাকার যৌতুক দাবীর জন্য বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (সদর) মৌলভীবাজারে একটি মামলা দায়ের করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com