মৌলভীবাজারে ২০০ গ্রাম প্লাবিত, পানির নিচে বিদ্যুতের সাবস্টেশন

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২২

মৌলভীবাজারে ২০০ গ্রাম প্লাবিত, পানির নিচে বিদ্যুতের সাবস্টেশন

ছবি : সংগৃহীত


মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজার জেলার ১০ ইউপির ২০০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব মালাকার।

 

জানা গেছে, জেলার বড়লেখা উপজেলার পাশাপাশি পাহাড় ধসে উত্তর শাহবাজপুর ইউপির আয়েশাবাগ চা বাগানে একজনের মৃত্যু ও সদর ইউপির কেছরিগুল গ্রামে একজন আহত হয়েছেন। এরই মধ্যে বিদ্যুতের সাবস্টেশন পানিতে ডুবে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

 

কুলাউড়া উপজেলায় অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নদ-নদীসহ হাকালুকি হাওরের পানি বেড়ে ভূকশিমইল, ভাটেরা, জয়চন্ডী, ব্রাহ্মণবাজার, কাদিপুর ও কুলাউড়া সদর ইউপির প্রায় সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

 

ডিসি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কর্মধা ইউপির মহিষমারা গ্রামের ফানাই নদীর বাঁধ ভেঙে মহিষমারা, বাবনিয়া, হাশিমপুর, ভাতাইয়া ও পুরশাই গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে। গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

 

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জুড়ী উপজেলায় ২৮টি গ্রামের প্রায় ১৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ২৪টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।

 

জায়ফরনগর ইউনিয়নের গৌরীপুর ও সাগরনাল ইউনিয়নের কাশিনগর গোয়ালবাড়ি পশ্চিম শিলুয়া গ্রামে জুড়ী নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁধ মেরামত কাজ চলছে।

 

এদিকে সদর উপজেলায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে খলিলপুর, মনুমুখ, আখাইলকুড়া, কনকপুর, কামালপুর, চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখানে বন্যাদুর্গত মানুষের সংখ্যা সাত হাজার ৫০০ জন।

 

রাজনগর উপজেলায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চার ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এখানে বন্যাদুর্গত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। শ্রীমঙ্গলে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ৫ ইউপির ১২ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এই ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত মানুষের সংখ্যা চার হাজার। কমলগঞ্জে বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর পাড় ভেঙে ৯ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার খুব কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন অবস্থায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন কর্তৃক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর ০৮৬১-৫২৭২৫।

 

মৌলভীবাজারের ডিসি মীর নাহিদ আহসান বলেন, বন্যাদুর্গতদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। রোববার থেকে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।


সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com