রেল সংশ্লিষ্টদের প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা, সরকারকে দায়ী করলেন ফখরুল

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

রেল সংশ্লিষ্টদের প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা, সরকারকে দায়ী করলেন ফখরুল

সুরমা মেইল ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য চালকদের প্রশিক্ষণ এবং রেল সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বেপজার ৩৪তম গভর্নিং বোর্ডের সভার শুরুতে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

 

মঙ্গলবার ভোররাত পৌনে ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের সাথে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী।

 

সভার শুরুতে দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করে ভয়াবহ এই ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিসমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

 

বক্তৃতার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অবশ্য একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। আজকে মধ্যরাতে ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। ইতোমধ্যে এ পর্যন্ত যে খবর পেয়েছি তাতে প্রায় ১৬ জন মানুষ মারা গেছে আর অনেকে আহত হয়েছে। আমাদের রেলমন্ত্রী ওখানে চলে গেছেন। সকলেই সেখানে উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়েছে। গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক একটা ঘটনা।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বুলবুলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারলাম কিন্তু দুভার্গ্য যে এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটে গেল। আমি ঠিক জানি না কেন? শীত মৌসুম আসলেই কিন্তু আমাদের দেশে নয় সারাবিশ্বেই দেখি যে রেলের দুর্ঘটনাটা ঘটতে থাকে।’

 

এ ব্যাপারে যারা রেলে কাজ করে তাদের আরও সতর্ক থাকা উচিত এমন মত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সাথে সাথে যারা রেলের চালক তাদেরও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।

 

তার সরকারের মেয়াদে রেল খাতকে গুরুত্ব দেয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রেলপথে যোগাযোগটা সবচেয়ে নিরাপদ এবং আমরা এটার উপর গুরুত্বও দিয়েছি। এখন নতুন নতুন রেল সম্প্রসারণ করে দিচ্ছি। পণ্য পরিবহন ও মানুষ পরিবহনসহ সব ক্ষেত্রেই রেল যথেষ্ট নিরাপদ।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাই হোক, একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং যারা আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। আমরা যথাযথ ব্যবস্থার জন্য যা যা প্রয়োজন সেটা করছি।’

 

এদিকে, কসবার হৃদয় বিদারক ঘটনায় গভীর শোক ও দূঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এই সরকারের আমলে তাদের উদাসীনতা ও অবহেলার কারণেই মহাসড়ক-রেলপথ-নৌপথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতেও কখনোই ভ্রুক্ষেপ করা হয় না বলে মন্তব্য করেন।

 

আজ এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন তাদের স্বজনদের মতো আমিও গভীরভাবে ব্যথিত, শোকাভিভূত ও উদ্বিগ্ন। বারবার ট্রেন দূর্ঘটনাসহ সড়ক ও নৌ দূর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষের জীবনহানি ঘটলেও দুর্ঘটনার যথাযথ কারণ খতিয়ে দেখে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের শিথিলতার কারণেই দুর্ঘটনা এখন চরম মাত্রা লাভ করেছে। এই সরকারের আমলে তাদের উদাসীনতা ও অবহেলার কারণেই মহাসড়ক-রেলপথ-নৌপথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতেও কখনোই ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। কারণ সরকার বিরোধী দলসহ গণতান্ত্রিক শক্তি দমনে যত তৎপর তার কিঞ্চিত পরিমাণও জনদুর্ভোগ কমাতে উদ্যোগী নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com