রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমার আন্তরিক নয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২:৩২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২০

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমার আন্তরিক নয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মেইল ডেস্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের আন্তরিকতা নিয়ে আবারো প্রশ্ন তুলে বলেছেন, বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে ফিরে যাক। কিন্তু এ বিষয়ে মিয়ানমার আন্তরিক নয়।

 

বৃহস্পতিবার (০২ জানুয়ারি) শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রী মাহমুদ হোসেন অপু, কে এম আসাদ, সুমন পাল ও সালাউদ্দিন আহমেদের তোলা শতাধিক আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক দিক থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ।কিন্তু বাংলাদেশ তাদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠাতে চায় না। তারা যেন নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হলো-সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই। প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক মধুর। ভারত, নেপাল, ভূটান, এমনিক মিয়ানামারের সঙ্গেও। আমরা ঝগড়া-বিবাদে যেতে চাই না। সেজন্যই মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

 

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও তারা এ বিষয়ে আন্তরিক নয়। আমরা তাদের এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা মাত্র আট হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়, যার জন্য দুই দফা তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটিও করেনি।

 

এ কে মোমেন বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারকে বলেছি, তোমাদের জনগণ তোমাদের বিশ্বাস করছে না। তোমরা রোহিঙ্গা নেতাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখাও। তাহলে তাদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। এ বিষয়ে আমরা মিয়ানমারকে চিঠিও দিয়েছি। কিন্তু এর কোন জবাব আসেনি।

 

রোহিঙ্গা সংকটের নানামুর্খী বিস্তারকে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের জনসংখ্যা পাঁচ লাখ, আর সেখানে এই মুহূর্তে ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। যার কারণে কক্সবাজারের জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। সেখানকার তরুণরা চাকরি পাচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সংখ্যাও বেড়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও তা যথেষ্ট নয়। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশ সরকারের ৫ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ অর্থ আমরা আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে পারতাম।

 

মন্ত্রী আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)’র পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতও (আইসিসি)মিয়ানমার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছে। আইসিসির কৌঁসুলির দপ্তর রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগ তদন্ত করেছে। রায়ে এসব বিষয়ও প্রভাব ফেলবে।

 

ড. মোমেন বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বলছে মিয়ানমারের গণহত্যা হয়েছে। এখন তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com