লাশ হয়ে গ্রামের বাড়িতে বিশ্বনাথের ফরিদ

প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৯

লাশ হয়ে গ্রামের বাড়িতে বিশ্বনাথের ফরিদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : ইউক্রেন থেকে ফ্রান্স যাওয়ার পথে স্লোভাকিয়ায় নিহত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কারিকোনা গ্রামের সমশাদ আলীর ছেলে ও ইস্টান ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন আহমদ (৩৫) এর লাশ অবশেষে দেশে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাজ‌্যে থেকে সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে লাশ এসে পৌঁছে।

বিমান বন্দরে লাশ গ্রহনকালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস‌্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডাঃ শামসুল ইসলাম, নিহতের ছোট ভাই কাওছার আহমদ (যুক্তরাজ‌্য প্রবাসী), আলা উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন সহ নিহতের স্বজনরা।

ফরিদের লাশ দেশে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর ছোট ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী কাওছার আহমদ জানান, বুধবার (০২ অক্টোবর) রাতে যুক্তরাজ্যের হিথরো বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ফরিদ উদ্দিন আহমদের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। লাশের সঙ্গে রয়েছেন চাচা যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলকাছ আলী (আওলাদ)। ভাই ফরিদের নিহতের কারণ নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। লাশ সেখানে একদিন হয়ত রাখা হতে পারে। তবে ফরিদের দাফনের বিষয়টি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে তিনি জানান।

জানাগেছে, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে রাশিয়া যান ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। খেলা শেষ হওয়ার মাস খানেক পর তিনি রাশিয়া থেকে ইউক্রেন যান এবং সেখান থেকে গত ২৮ আগস্ট দালালের মাধ্যমে ৫জন সঙ্গীর সাথে ইউক্রেন থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাত্রা করেন ফরিদ। এরপর ২ সেপ্টেম্বর ফরিদের সঙ্গীরা ফ্রান্স পৌঁছলেও নিখোঁজ হয়ে যান ফরিদ। পরিবারের পক্ষ থেকে দালাল ও সঙ্গীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে পরিবারের সাথে তারা নানান তালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর স্লোভাকিয়ার স্টারিনার এলাকার একটি পর্যটন স্পট থেকে ফরিদের মরহেদ উদ্ধার করে সেদেশের পুলিশ। ওই দিন অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ‘জওজে টিভি’র বরাত দিয়ে সেদেশের ‘নোভেনী ডট এসকে’ নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদটি প্রচার করে।

ফরিদের স্বজনরা যুক্তরাজ্য থেকে স্লোভাকিয়ায় গিয়ে সেদেশের একটি মর্গে ফরিদ উদ্দিন আহমদের লাশ সনাক্ত করেন। এরপর লাশ দেশে নিয়ে আসতে তারা অনেক প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। একপর্যায়ে লাশ বাংলাদেশে নিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করেন ফরিদের স্বজনরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অবশেষে দেশে আনা হয় ফরিদ উদ্দিন আহমদের লাশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com