সংকট নয়, আশঙ্কায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

সংকট নয়, আশঙ্কায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

সুরমা মেইল ডেস্ক ,

 

ভারত রফতানি বন্ধ করে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুরে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। সেই সঙ্গে সংকটের আশংকায় বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। ফলে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দামও বেড়েছে।

 

মঙ্গলবার দিনাজপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সোমবার আমদানিকৃত পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হতো প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। একদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার সেই দাম বেড়ে বিক্রি হয় ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। পাশাপাশি সোমবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬০ টাকা কেজি দরে। সেই পেঁয়াজ মঙ্গলবার বিক্রি হয় ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।

 

বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারদের কাছ থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ কেনায় বাধ্য হয়েই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

 

দাম বেশি হলেও বিক্রি বেড়েছে বলে জানান দিনাজপুর বড় মাঠের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা মমতাজ হোসেন। তিনি জানান, সংকটের আশংকায় অনেকেই বেশি বেশি করে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে দাম আরও বাড়ছে।

 

দিনাজপুরের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মাজেদুর রহমান জানান, মোকামে পেঁয়াজ না পাওয়ায় তাদের বিভিন্ন স্থান থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে।

 

তিনি জানান, হিলি স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ এনে বিক্রি করেন তিনি। কিন্তু সোমবার হিলিতে কোনো পেঁয়াজ পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়েই বগুড়া থেকে দ্বিগুণ দাম দিয়ে তাকে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে।

 

মাজেদুর রহমান জানান, এর আগে গত রোববার আমদানিকৃত পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে কিনলেও গত সোমবার বগুড়ায় তাকে সেই পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।

 

পাইকারি এই ব্যবসায়ী জানান, সোমবার তিনি আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও মঙ্গলবার তিনি বিক্রি করেছেন ৮০ টাকা কেজি দরে। আর ৫৮ টাকা দরের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন ৯০ টাকা কেজি দরে।

 

বিক্রি বৃদ্ধির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন তিনি ১০০ বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করলেও মঙ্গলবার তিনি বিক্রি করেছেন ১৪০ বস্তা পেঁয়াজ। আরও দাম বৃদ্ধি ও সংকটের আশংকায় ভোক্তারা বেশি বেশি করে পেঁয়াজ কিনছেন। এজন্য বিক্রি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়ছে বলে জানান তিনি।

 

এদিকে হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের বাংলা হিলি স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে পেঁয়াজবাহী ১৫০টি ট্রাক।

 

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন যুগান্তরকে জানান, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঊর্ধ্বমূল্য রুখতে তারা হঠাৎ করেই বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ১০ হাজার টন পেঁয়াজের এলসি করা ছিল এবং পেঁয়াজভর্তি ১৫০টি ট্রাক হিলি স্থলবন্দরের ওপারে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সোমবার হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় সেসব পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে মারাত্মক আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা।

তিনি জানান, শুধুমাত্র ভারতের ওপর নির্ভরশীল নয়, আমরা আমদানিকারকরা অন্যান্য দেশেও এলসি দিয়েছি। তাই দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

এদিকে সোমবার ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার মহাপরিচালক অমিত যাদব স্বাক্ষরিত এক নোটিশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। নোটিশে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে। এই সংক্রান্ত একটি আদেশ ভারতের বিভিন্ন বন্দরের কাস্টমসে পাঠানো হয়।

 

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়ায় ভারতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি রুখতেই তারা পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সোমবার বিকালে এই বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলেও সোমবার সকাল থেকেই দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। সর্বশেষ রোববার ২৯টি পেঁয়াজবাহী ট্রাক হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক প্রতাপ।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com