সন্তানকে কোলে নিয়েই নিজের ফাঁসির রায় শুনল মনি

প্রকাশিত: ১:৪২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৯

সন্তানকে কোলে নিয়েই নিজের ফাঁসির রায় শুনল মনি

সুরমা মেইল ডেস্ক : ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে অন্যতম নুসরাতের সহপাঠী কামরুন নাহার মনি। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তার সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

 

এর আগে অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় কিলিং মিশনে অংশ নেন তিনি। কারারুদ্ধ মনি গত ২১ অক্টোবর জন্ম দেন কন্যা সন্তানের। আদালতে ওই কন্যা শিশুকে কোলে নিয়ে নিজের ফাঁসির আদেশ শুনল সে। এখন তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুসরাতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম শাহজাহান সাজু বলেন, মাননীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন সে রায়টি কার্যকর হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে। কারণ আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করবেন, পেপার বুক তৈরি হবে এবং এটা আপিল বিভাগে যাবে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ফুল কোর্টে শুনানি হবে।

 

এরপর আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইতে পারেন। এ প্রক্রিয়াটির জন্য আরও অনেক সময় লাগবে। কয়েক বছর লাগতে পারে। এ সময়ের মধ্যে কামরুন নাহার মনির বাচ্চা বড় হয়ে যাবে। বাচ্চা তার বাবার জিম্মায় চলে যেতে পারবে। কামরুন নাহার মনির শাস্তি কার্যকর হতে পারবে বলে জানান তিনি।

 

তবে এলাকাবাসী বলছে, উচ্চ আদালতে মনির দণ্ড লাঘব হলেও এ শিশুটি ভবিষ্যতে মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ এ হত্যা মিশনে কামরুন নাহার মনির যে ন্যক্কারজনক ভূমিকা পালন করেছেন তার সাজা তাকে ভোগ করতেই হবে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কীভাবে তিনি সহপাঠীকে হত্যার মতো ঘৃণ্য কাণ্ডে যুক্ত হলেন সেটি নিয়ে হতবিহ্বল তারা।

 

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ এ মামলার ১৬ আসামিরই ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই টাকা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com