সিলেটের নতুন স্টেডিয়াম’র উদ্বোধন হচ্ছে শনিবার

প্রকাশিত: ৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

সিলেটের নতুন স্টেডিয়াম’র উদ্বোধন হচ্ছে শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট আউটার স্টেডিয়াম নাম বদলে সিলেট ক্রিকেট গ্রাউন্ডস-২ হয়েছে। নব-নির্মিত নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামীকাল শনিবার (২৩ জানুয়ারি)।

 

সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশ্ববর্তী সিলেট গ্রাউন্ডস দুইয়ের উদ্বোধন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ.কে.এম আব্দুল মোমেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবি পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

 

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে সিলেট আউটার স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সকল সুযোগ-সুবিধা থাকায় এনএসসি ও বিসিবি মাঠটিকে আন্তর্জাতিক মাঠের মর্যাদা দেওয়ার জন্য এরই মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলে আবেদনও করেছে।

 

লাক্কাতুরাস্থ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পূর্ব-দক্ষিণ পার্শ্বে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটিকে সিলেট গ্রাউন্ডস-২ নাম দিয়েছে বিসিবি। আর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে সিলেট গ্রাউন্ডস-১ নাম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে এরই মধ্যে আইসিসিকে চিঠিও দিয়েছে বিসিবি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির অনুমোদন পেলেই নাম বদলে যাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের।

 

সিলেট গ্রাউন্ডস-২’র উদ্বোধনের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে.এম আব্দুল মোমেন উদ্বোধন করবেন জেলা স্টেডিয়ামের নব-নির্মিত পাঁচতলা বিশিষ্ট ভিআইপি ভবন। সিলেট গ্রাউন্ডস-২’র উদ্বোধন উপলক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা বিশেষ স্মারকও প্রকাশ করছে।

 

এর আগে খাতা-কলমে আউটার স্টেডিয়াম বলা হলেও পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামের সকল সুযোগ-সুবিধা থাকায় শনিবার থেকে সিলেট গ্রাউন্ডস-২ হিসেবেই পরিচিত পাচ্ছে নতুন এই স্টেডিয়ামটি। এই মাঠটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আদলে তৈরি। মাঠের পুরোটাই জুড়ে পানি পরিশোধনের ব্যবস্থাও বিশ্বমানের। ৮টি উন্নত মানের স্পোটিং উইকেট নিয়ে সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গনের জন্য সু-খবর বয়ে আনছে স্টেডিয়ামটি।

 

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্রীণ গ্যালারির হাহাকার পুষিয়ে দেবে আউটারের আদলে তৈরি হওয়া নতুন এই সিলেট গ্রাউন্ডস-২ নামে স্টেডিয়ামটি। দুই পাশেই সবুজের সমারোহ। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে টিলা। টিলার উপরে সবুজ ঘেরা ঘাস, তার উপর থাকছে সারি সারি গাছের বাগান। ফলজ, ঔষধীসহ নানা ফুলজ গাছে ভরপুর থাকবে স্টেডিয়ামের চারিপাশ। দর্শকদের জন্য গ্যালারি বা চেয়ার থাকবে না, তবে চাইলেই সবুজ ঘাসের ওপর গা এলিয়ে আরাম-আয়েসে ম্যাচ দেখতে পারবেন তারা।

 

একটি, দু’টি নয়, চার চারটি উন্নত মানের ড্রেসিং রুমে থাকছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। ড্রেসিং রুমেই থাকছে আইস বাথসহ আন্তর্জাতিক মানের সকল সুবিধা। সাংবাদিকদের বসার জন্যও থাকছে পৃথক ব্যবস্থা। আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারিসহ অফিসিয়ালদের জন্যও থাকছে পৃথক পৃথক রুম। চারটি ড্রেসিং রুম থাকায় এক সঙ্গে চারটি দল অবস্থান করতে পারবে মাঠে। স্টেডিয়ামটির পাশেই থাকছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার একাডেমিক ভবন। বিসিবির আঞ্চলিক একাডেমির ক্রিকেটাররা থাকবেন সেই ভবনে। অনুশীলনের জন্য ক্যাম্প করতে আসা ‘এ’ দল, নারী দলসহ বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটাররা থাকতে পারবেন মাঠের পাশেই একাডেভিমক ভবনে। সংযোগ থাকায় আউটার স্টেডিয়াম থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যাওয়া-আসার জন্য জন্য ‘আয়রণ ব্রিজে’র মাধ্যমে থাকছে বিশেষ সুবিধা। যা বাড়িয়ে দেবে স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য্য এবং কার্যকারিতা। নামাজের সুযোগ-সুবিধাও থাকছে মাঠের পাশেই। মাঠের পাশেই এরই মধ্যে মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করা হয়েছে।

 

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পার্শ্বে ৮.৭৩ একর জায়গা জুড়ে ২৪ কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে আউটার স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিছুটা বিলম্বে ২০১৯ সালের মার্চে এনএসসির ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেন। শুরুতে ২৪ কোটি টাকা ব্যায় ধরা হলেও পরবর্তীতে এই ব্যায় বেড়ে ২৮ কোটি টাকায় গিয়ে টেকেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)’র ৩ জন ঠিকাদার কাজ করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com