সিলেটে ছিনতাই অভিযোগ: ৪ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদন্ড

প্রকাশিত: ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬

সিলেটে ছিনতাই অভিযোগ: ৪ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদন্ড

karadondo
সুরমা মেইল নিউজ : সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক সিএনজি অটোরিক্সা যাত্রীর মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় রবিবার ৪ ছিনতাইকারীকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক জয়নাল আবেদীন। এছাড়াও প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে বিনাশ্রমে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়।

দন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে, সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানার হামিদপুর গ্রামের আবুল হোসেনের পুুত্র বর্তমানে নগরীর মেন্দিবাগ তাজু মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. আব্দুল লতিফ (২৯), নগরীর মেন্দিবাগ নয়াগাঁওর মৃত আব্দুল জব্বারের পুত্র আব্দুর রহিম (২৯), ময়মনসিংহ জেলার ইশ্বরগঞ্জ থানার চরশিহারী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র বর্তমানে নগরীর মেন্দিবাগ নয়াগাঁওর বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন ওরফে নাসির (৩৩) ও সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার শিমুলতলা গ্রামের আব্দুল ছাত্তারের পুত্র বর্তমানে দক্ষিণ সুরমা জৈনপুর মাসুক মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা মো. সুমন (৩২)। আসামিদের মধ্যে লতিফ ছাড়া বাকি সবাই পলাতক রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়- ২০০৯ সালের ৩ মার্চ সন্ধ্যায় গোলাপগঞ্জ থানার রফিপুর গ্রামের মো. আম্বর আলীর পুত্র মো. শাহ আলম শ্বশুড় বাড়ি হিলালপুর থেকে একটি সিএনজিযোগে (সিলেট-থ-১২-৭৪৩১) নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময় গাড়িতে চালকসহ ৪ জন যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী ছিল। তার গাড়িটি ঐ দিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী দিঘীরপাড়ে পৌঁছামাত্র ছিনতাইকারীরা শাহ আলমের গলায় চাকু ধরে তার মোবাইলসেট ও নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত গাড়ী থেকে তাকে রাস্তায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যায়। এসময় তিনি ছিনতাইকারীদের বহনকৃত গাড়ীর নম্বর রেখে দেন তিনি। ২০০৯ সালের ৮ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ডিউটিরত পুলিশকে সাথে নিয়ে ছিনতাইর শিকার শাহ আলম হেতিমগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে ওই গাড়িটি পান। এসময় পুলিশ চালক আব্দুল লতিফ ও আ. রহিমকে আটক করে। পরদিন আটককৃত আ. লতিফ ও আ. রহিম সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন কবিরের আদালতে ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি প্রদান করে। এ ঘটনায় শাহ আলম বাদী হয়ে ৪ ছিনতাইকারীকে আসামী করে গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা (নং-৭) দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গোলাপগঞ্জ থানার এসআই মো. জাবেদ মাসুদ ৪ ছিনতাইকারীকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন এবং ২০১০ সালের ৮ জুুন থেকে এ মামলার বিচার কার্য্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানী ও ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের দন্ডবিধির ৩৯২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে উল্লেখিত দন্ডাদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. বেলাল উদ্দিন ও আসামীপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আতিকুর রহমান মামলাটি পরিচালনা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com