হবিগঞ্জে ৮৫ শিশু হাসপাতালে, কম্বল নিয়ে শীতার্তদের পাশে ইউএনও তাসনূভা

প্রকাশিত: ১:১৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৯

হবিগঞ্জে ৮৫ শিশু হাসপাতালে, কম্বল নিয়ে শীতার্তদের পাশে ইউএনও তাসনূভা

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : গত দুইদিনে তীব্র শীতে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৫ শিশু ও নবজাতক।

 

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স জবা আক্তার জানান, দুইদিনে ২৮ দিনের উপর বয়সের ৩৫ শিশু এখানে ভর্তি হয়েছে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে এরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় দুই মাস বয়সী কিছু শিশুও রয়েছে হাসপাতালে। এদের চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তাররা।

 

শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হবিগঞ্জ শহরতলীর বহুলা গ্রামের সোহেলা আক্তার জানান, শুক্রবার ঠাণ্ডার কারণে অচেতন হয়ে যায় তার সাড়ে ৩ বছরের শিশু নাঈমা আক্তার। পরে হাসপাতালে ভর্তির পর স্যালাইন পুশ করার কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফেরে।

 

ঠাণ্ডায় আক্রান্ত আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা ৯ মাস বয়সী রিহাদ আহমেদকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তার মা জিবু আক্তার। গত বুধবার রাতে ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে রিহাদ। একপর্যায়ে প্রচণ্ড ডায়রিয়া দেখা দিলে তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালে আসেন।

 

লাখাই উপজেলার ভরপূর্নি গ্রামের উর্মি রায় জানান, তার ৮ দিন বয়সী নবজাতকের নিউমোনিয়া হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন ঠাণ্ডা লেগে এ অসুখ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার দেবাশীষ দাশ বলেন, অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে রোটা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে। যে কারণে শিশুরা অল্পতেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া নিউমোনিয়াও বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। হাওরাঞ্চলের শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

 

বিশেষ করে নবজাতকের ব্যাপারে শ্রমজীবী মানুষদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

 

বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, শীতে কাতরাচ্ছে বিভিন্ন বয়সের শিশুরা। আজমিরীগঞ্জের ৫ বছর বয়সী জোসনা বলেছে, শীতের কাপড় না থাকায় সারাক্ষণ ঘরের ভেতরেই থাকতে হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, গত দুইদিনে চা শ্রমিকসহ বিভিন্ন এলাকার ছিন্নমূল সহশ্রাধিক মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমী আক্তারসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

 

কম্বল নিয়ে শীতার্তদের পাশে মাধবপুরের ইউএনও তাসনুভা

এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুরে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করছেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনূভা নাশতারান।

 

অসহায় দরিদ্র শীতার্তদের দুর্ভোগের কথা ভেবে শুক্রবার সকাল থেকে মাধবপুরের বিভিন্ন রেল স্টেশন, এতিমখানা, বেদেপল্লীসহ বিভিন্নস্থানে কম্বল নিয়ে যান ইউএনও তাসনূভা। দরিদ্র শীতার্তদের কাছে কাছে গিয়ে তিনি কম্বল বিতরণ করেন। হাড় কাঁপানো এ শীতে কম্বল পেয়ে আনন্দিত শীতার্তরা।

 

দুঃসময়ে কম্বল নিয়ে শীতার্তদের পাশে যাওয়ায় এরা অনেকেই ইউএনও’র প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনূভা নাশতারান বলেন, ‘আমাদের গরম কাপড় আছে বলেই শীত থেকে রেহাই পাচ্ছি। যাদের নেই তারা কিভাবে শীত থেকে রক্ষা পাবে? তাই বিভিন্ন স্থানে গিয়ে প্রকৃত শীতার্তদের মাঝে সরকারি কম্বল নিজ হাতে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা সবাই মিলে শীতার্তদের পাশে থাকতে হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com