হল ছাড়েনি শিক্ষার্থীরা, শাবি উপাচার্য কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২২

হল ছাড়েনি শিক্ষার্থীরা, শাবি উপাচার্য কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা

Manual7 Ad Code

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি :
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে উপাচার্য কার্যালয়, দুটি প্রশাসনিক ভবন ও চারটি একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

 

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে রোববার সন্ধ্যায় সিন্ডিকেটের জরুরি সভা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা আসে। শিক্ষার্থীদের সোমবার বেলা ১২টার মধ্যে হল ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ওই নির্দেশ না মেনে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

হল ছাড়েনি শিক্ষার্থীরা, শাবি উপাচার্য কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা

রোববার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে পুরো ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করেন আন্দোলকারীরা। মিছিল শেষে বেলা ১১টার দিকে মুক্তমঞ্চে জমায়েত হন তারা।

 

Manual5 Ad Code

দুপুর ১২টার আগে হল ত্যাগের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয় ওই সমাবেশ থেকে। সেখানে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা হলেই অবস্থান করবেন এবং প্রতিটি হলের প্রভোস্টের অফিসের তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ভিসিকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতি বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

 

এরপর বেলা সাড়ে ১১টার পর শিক্ষার্থীরা হলগুলোর প্রশাসনিক কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন।

 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ। এখন আমরা সকলে একসাথে বসব। সকলের আলোচনার মধ্যে যে সমাধান আসবে, সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।’

 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। ভিসির অপসারণের দাবিতে বেলা আড়াইটা থেকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছি। এই গণস্বাক্ষরসহ রাষ্ট্রপতি বরাবর ভিসির অপসারণের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করব।’

 

রোববার সকাল থেকে ক্যাম্পাস আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বেলা আড়াইটা থেকে প্রচুর পুলিশ অবস্থান নেয়। তবে ক্যাম্পাসের অন্য জায়গায় পুলিশ মোতায়েন ছিল না। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলে অবস্থান করছেন।

 

Manual5 Ad Code

এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, রোববার রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। এতে ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো রাশেদ তালুকদারকে সভাপতি ও রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেনকে সদস্য সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে সদস্য করা হয়েছে।

 

বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’ করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের শিক্ষার্থীরা। রোববার সেই আন্দোলনের চতুর্থ দিনে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। বিকাল ৫টার দিকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

Manual6 Ad Code

 

বিকাল ৪টার দিকে উপাচার্যকে মুক্ত করতে আইসিটি ভবনের সামনে পুলিশ উপস্থিত হয়। এ সময় ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন?  প্রশাসন জবাব চাইসহ’ বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

 

বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে, কাঁদুনে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাসহ অর্ধশত আহত হন।


।আরও পড়ুন

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code