এবার ঘরের মাঠে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১:২১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২১

এবার ঘরের মাঠে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ

খেলাধুলা ডেস্ক : তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করলো সফরকারী পাকিস্তান। বিশ্বকাপ থেকে ব্যর্থতাকে সঙ্গী করা বাংলাদেশ দল এবারের ঘরের মাঠেও হারলো সিরিজ। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে বাজে ব্যাটিং, ফিল্ডিং আর ক্যাচ মিসে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হাতছাড়া করলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

 

বাংলাদেশের দেওযা ১০৯ রানের টার্গেট হেসে খেলেই টপকে গেছে বাবর আজমের দল। ব্যাট হাতে ফিফটি করে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটের বড় এনে দিয়েছেন ফখর জামান। ১১ বল হাতেই বাংলাদেশের করা ১০৮ রান টপকে যায় সফরকারীরা। ব্যাট হাতে হাফ সেঞ্চুরি করা এই ফখর একবার জীবন পেয়েছেন ব্যক্তিগত ২৬ রানে। ইনিংসের ১২তম ওভারে বিপ্লবের বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন বাবর। সাইফ হাসান সহজ ক্যাচটি ফেলে দেন হাত থেকে। আউটের বদলে চার রান পান এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

 

স্বাগতিক বোলাররা পাকিস্তানের ব্যাটারদের কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি। শিকার করেছেন মাত্র ২টি উইকেট। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম উইকেটটি শিকার করেন মুস্তাফিজুর রহমান। পাকিস্তানের ওপেনার ও অধিনায়ক বাবর আজমকে সাজঘরে পাঠান দলীয় ১২ রানের মাথায়। ৫ বলে এক রান করেন ওই ওপেনার। আরেক ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ানও একবার জীবন পেয়েছেন। তবে তিনি জীবন পাওয়ার পরেই ফিরেছেন সাজঘরে। দলীয় ৯৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান। ফিরে যান ওপেনার রিজওয়ান। ইনিংসের ১৬তম ওভারের তৃতীয় বলে সাইফের হাতে ধরার পড়ার আগে তিনি ৪ টি চারে ৪৫ বলে ৩৯ রান করেন। দুই চার ও তিন ছয়ে ৫১ বলে ৫৭ রান করা বাবর থাকেন অপরাজিত থাকেন। ৬ রানে তার সঙ্গী হন হায়দার আলী।

 

বাংলাদেশের হয়ে আমিনুল ও বিপ্লব ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

 

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ব্যাটারদের ব্যর্থতায় অল্পতেই থামে। ব্যাটারদের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা চলছে সেই বিশ্বকাপ থেকে। দুই ওপেনার নাঈম ও সাইফ প্রথম দিনের মতোই আজো ব্যর্থ হয়। পাকিস্তানী বোলারদের প্রতিরোধ উইকেটে তীতু হতে পারেননি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটাররা। সফরকারীদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে থামতে হয়েছে অল্প রানেই। দলের রানের খাতা খুলতেই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই সাজঘরের পথ ধরেন ইনিংস উদ্বোধন করতে নামা ওপেনার সাইফ হাসান। প্রথম বল মোকাবেলায় পড়েন এলবিডাব্লিউ’র ফাঁদে। দলীয় ১ রানেই টাইগাররা হারায় প্রথম উইকেট।

 

সাইফের বিদায়ের পর মোহাম্মদ নাঈমও দ্রুত ফিরেন সাজঘরে। দলীয় ৫ রানের মাথায় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলেই সাজঘরে ফেরত যান তিনি। ব্যর্থ এই ব্যাটার ৮ বল খেলেন। করতে পারেন মাত্র ২ রান। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন শান্ত ও আফিফ। দুু’জনের জুটি থেকে বাংলাদেশ পায় ৪৬ রান। দলীয় ৫১ রানে ইনিংসের নবম ওভারের প্রথম বলে আফিফ ফিরে গেলে ভেঙ্গে যায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটিটি। এক চার ও এক ছক্কায় ২০ বলে ২১ রান করেন আফিফ।

 

তৃতীয় উইকেট জুটির পতনের পর চতুর্থ উইকেটে ২৮ রানের জুটি গড়েন শান্ত ও মাহমুদউল্লাহ। এই দুই জুটিতেই বাংলাদেশ দল টেনেটুনে শতক পার করতে পারে। দলীয় ৭৯ রানে অধিনায়ক রিয়াদের বিদায়ে ভেঙ্গে যায় দায়িত্বশীল জুটিটি। ১৫ বলের ধীরগতির ইনিংসে এক বাউন্ডারিতে ১২ রানে রিয়াদ। সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিলো সেট হওয়া শান্ত হয়তো পরের দিকে ব্যাট চালাবেন, রান বাড়বে। কিন্তুু সেটি আর হয়নি। দ্রুত রান তুলার সময়ে ৩৪ বলে ৪০ রান করে শান্ত দলীয় ৮২ রানের মাথায় ফিরে যান সাজঘরে। পাঁচটি চারের মার ছিলো তার ইনিংসে। বাংলাদেশের হয়ে বলার মতো রানের দেখা পাননি অন্য কোনো ব্যাটার। ১১ রান করেন সোহান। ১৩ বলের ইনিংসে একটি চার হাঁকান এই উইকেটরক্ষক। ৮ রানে আমিনুল ইসলাম ও ২ রানে তাসকিন অপরাজিত থাকেন।

 

পাকিস্তানের হয়ে শাদাব খান ও শাহিন শাহ আফ্রিদী ২টি করে উইকেট লাভ করেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com