কাফনের কাপড় জড়িয়ে ছেলের খোঁজে মা

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০১৬

কাফনের কাপড় জড়িয়ে ছেলের খোঁজে মা

jiuiujসুরমা মেইল নিউজ : রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই ছেলের লাশের অপেক্ষায় তিনি। কখনও ধসে পড়া রানা প্লাজায় আবার কখনও অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। তবুও মেলেনি ছেলের মরদেহ। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ছুটেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে। ডিএনএ টেস্টেও ছেলের মরদেহের সুরাহা হয়নি। মেহের বানুর নামের এই মা এখন ক্লান্ত। রোববার সকালে তিনি রানা প্লাজায় এসেছেন কাফনের কাপড় জড়িয়ে।

রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে রোববার দুপুরে রানা প্লাজার সামনে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি নামে একটি শ্রমিক সংগঠন। এতে মেহের বানুর মত কাফনের কাপড় পড়ে নিখোঁজ শ্রমিকদের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনরাও অংশ নেয়।

মানববন্ধনে মেহের বানু বলেন, ‘আমরা তো বাস্তবেও লাশ। ছেলের লাশ খুঁজতে গিয়া আমিও লাশ হইলাম। কিন্তু ছেলেটাকে পাইলাম না। আমার ছেলে বাবু, ছয়তলায় কাজ করতো। সব শ্রমিকেই জানে। সেইদিন সকালে কাজে গেছে। ধইসা পড়ার পর আমার গেল কোথায়?  আমাকে আমার ছেলে ফিরাইয়া দেন।’ মানববন্ধনে নিখোঁজ শ্রমিক শান্তা আক্তারের মা রোকেয়া বেগম দাঁড়িয়েছিলেন প্রিয় সন্তানের ছবিযুক্ত প্লেকার্ড জড়িয়ে। তাতে লেখা ছিল সন্ধান চাই। কথা বলতে গিয়ে অঝোড়ে কাঁদেন তিনি। বলেন, কত জায়গায় দৌড়াইলাম। মেয়েকে পাইলাম না। রানা প্লাজায় যেসব হাড়গোড় পাওয়া গেছে ওই গুলাই তো আমার মেয়ের ছিল। আমার মেয়েকে আর্মিরা মাটির সঙ্গে মিশাইয়া দিছে। ডিএনএ মিলে নাই দেখি ক্ষতিপূরণ পাই নাই। এহন যাবো কোথায়?

মানববন্ধনের আয়োজক বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভায় প্রধান অতিথি তাসলিমা আখতার বলেন, এখনও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। তিন বছরেও অর্ধশতাধিক শ্রমিকের পরিচয় সনাক্ত হয়নি। তাহলে যারা ওইদিন কারখানায় প্রবেশ করেছে তারা কি উধাও হয়ে গেছে। তারা ধ্বংসস্তুপে হারিয়ে গেছেন। যারা নিজেদের স্বজনরা নিখোঁজ হয়েছেন বলে দাবি করছেন তাদের সংখ্যা বেশি নয়। তাই তাদের দাবি মেনে নিয়ে ক্ষতিপূরণের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com