গোয়াইনঘাটে তিন খুন: সন্দেহের তীর হিফজুরের দিকেই

প্রকাশিত: ১:১০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২১

গোয়াইনঘাটে তিন খুন: সন্দেহের তীর হিফজুরের দিকেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট : সিলেটের গোয়াইনঘাটে মাসহ দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন নিহতের স্বামী হিফজুর রহমান। স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে নিজের শরীরে আঘাত করে আহত হওয়ার নাটক সাজাতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশের সন্দেহের তালিকায় হিফজুরই রয়েছেন।

 

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে হিফজুরের শ্যালিকা, মামা-মামিসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। তাই পুলিশের সন্দেহ হিফজুরই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

 

পুলিশ বলছে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন হিফজুর। তাই এখনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। কিছুটা সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন পুরো ঘটনা জানা যাবে।

 

এদিকে তিন খুনের ঘটনায় নিহত আলিমা বেগমের বাবা আইয়ুব আলী বাদি হয়ে বুধবার (১৬ জুন) ঘটনার দিন রাতে অজ্ঞাতনামা আসামী করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

 

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ জানান, হিফজুরের পরিবারে প্রায় ঝগড়াঝাটি হতো। গত দুই মাসে দুবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তার শ্যালিকার বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নিয়েও স্ত্রী আলিমা বেগমের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়।

 

। আরও পড়ুন 

 

ঘটনার দিন বুধবার ভোরে আত্মীয় ফয়েজ মিয়াকে মোবাইলে কল দিয়ে হিফজুর বলেন, আমি অসুস্থ হাসপাতালে নিতে হবে, টাকা-পয়সা নিয়ে দ্রুত চলে আসেন। এ খবর পেয়ে তিনি (ফয়েজ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন ফয়েজ। পরে কাঁচাঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একই বিছানায় চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় চারজনকেই মৃত মনে হয়।

 

ওসি আরো জানান, স্থানীয়রা ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরার ফ্লাশে চোখ খুলে আবারো চোখ বন্ধ করে ফেলেন হিফজুর। তখন তার কাছে গিয়ে দেখেন শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক। তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশ হেফাজতে তার চিকিৎসা চলছে। তবে হিফজুর শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত নেই।

গোয়াইনঘাটে তিন খুন: সন্দেহের তীর হিফজুরের দিকেই

প্রসঙ্গত, বুধবার (১৬ জুন) সকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি গ্রামে মাসহ দুই সন্তানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিনমজুর হিফজুরকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন- ফতেহপুরের বিন্নাকান্দি ফুলেরতল গ্রামের হিজবুর রহমানের স্ত্রী আলেমা বেগম (৩৫), ছেলে মিজান (৮) ও মেয়ে তানিশা (৫)। ঘটনাস্থল ঘরের ভেতর বিছানা থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় গৃহকর্তা হিজবুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার দিন দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, এসপি মো. ফরিদ উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে এসপি মো. ফরিদ উদ্দিন সংবাদকর্মীদের জানান, আমরা ধারণা করছি পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং মামার বাড়ির সঙ্গে ঝামেলার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। কারণ হিফজুর রহমান দীর্ঘদিন থেকেই মামার বাড়িতে থাকছেন। এটি হয়তো মামার বাড়ির লোকজন ভালোভাবে নেননি। সেজন্য হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। এছাড়া হিফজুর রহমানের পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেও এটি হতে পারে। আমরা মূলত; এসব বিষয় সামনে রেখেই প্রাথমিক তদন্ত করছি।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com