জমিয়ে তুলা ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১:৫২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২১

জমিয়ে তুলা ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ

খেলাধুলা ডেস্ক : ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচটি হারলো বাংলাদেশ। মাত্র ১২৭ রানের পূঁজি নিয়ে দারুণ শুরু করে ছিলেন তাসকিন-মুস্তাফিজরা। এক পর্যায়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেন তারা। পাকিস্তান ২৪ রানের মধ্যেই হারায় চার উইকেট। দুই পারফর্মার রিজওয়ান ও বাবর আজম ব্যাট হাতে কিছুই করতে পারেননি।

 

চার উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের জয়ের জন্য ৫৮ বলে প্রয়োজন ছিলো ৮৬ রান। সেখান থেকেই ম্যাচ বের করে নেন অভিজ্ঞ ফখার জামান ও খুশদিল শাহ। তাদের পঞ্চম উইকেট জুটিতে পাকিস্তান ৫৬ রান পেয়ে ম্যাচে ফিরে। শেষ পর্যন্ত ৪ বল হাতে রেখে চার উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।

 

বাংলাদেশের করা ১২৭ রানের জবাবে খেলতে নামা পাকিস্তান প্রথম উইকেট হারায় দলীয় ১৬ রানে ইনিংসের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে। এরপর তিন রানের মধ্যে হারায় তিন উইকেট। দলীয় ২২ রানে ইনিংসের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে দ্বিতীয়, দলীয় ২৩ রানে পঞ্চম ওভারের শেষ বলে তৃতীয় ও দলীয় ২৪ রানে ইনিংসের ষষ্ট ওভারের শেষ বলে চতুর্থ উইকেট হারায় দলটি।

 

প্রথম উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ানের পর তিন রানের মাথায় ফিরে যান অধিনায়ক বাবর আজম, অভিজ্ঞ ব্যাটার শোয়েব মালিক ও হায়দার আলী। ২৪ রানের মধ্যেই হারিয়েছে চারটি উইকেটে। ইনিংসের ষষ্ট ওভারের শেষ বলে দারুণ এক রানআউটে রানের খাতা খুলার আগেই শোয়েব মালিককে সাজঘরে পাঠিয়েছেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান।

 

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান উপরে ফেলেন পাক ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্ট্যাম্প। দলীয় ১৬ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে যান এই ওপেনার। এক চারে ১১ বলে করেন ১১ রান। মুস্তাফিজের পরপরই উইকেটে আঘাত হানেন তাসকিন। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে পাক অধিনায়ক বাবর আজমকে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। প্রথম উইকেট হারানোর পাঁচ রানের মাথায় দলীয় ২২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারী দলটি।

 

দুই পেসারের প্রথম উইকেট শিকারের পর এবার উইকেটের খাতা খুলেন স্পিনার মেহদী হাসান। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের শেষ বলে এলবিডাব্লিউ’র ফাঁদে ফেলে প্যাভেলিয়ানে ফেরত পাঠান হায়দার আলীকে। দলীয় ২৩ রানের মাথায় রানের খাতা খুলার আগেই সাজঘরে ফিরেন এই ব্যাটার। এরপরই দারুণ একটি রানআউট করেন সোহান। ষষ্ট ওভারের শেষ বলটি মোকাবেলা করা শোয়েব মালিক ব্যাট ফেলতে বিলম্ব করেন। সুযোগ পেয়ে সোহান ভেঙ্গে দেন স্ট্যাম্প। ২৪ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান। তিন বল খেললেও রানের খাতা খুলতে পারেননি শোয়েব।

 

পঞ্চম উইকেটে ফকর জামান ও খুশদিল ৫০ বলে ৫৬ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান। দলীয় ৮০ রানের মাথায় ইনিংসের ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফখর জামানকে ফেরান তাসকিন। চারটি চারে ৩৬ বলে ৩৪ রান করেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। শোয়েবের বিদায়ের পর খুশদিল শাহও ফিরেন দ্রুত। ইনিংসের ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৩৫ বলে ৩৪ রান করা খুশদিলকে প্যাভেলিয়ানে পাঠান শরিফুল। দলীয় ৯৬ রানে ষষ্ট উইকেট হারায় সফরকারীরা। সপ্তম উইকেটে শাদাব খান ও মোহাম্মদ নেওয়াজ পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন। ১৫ বলে ৩৬ রানের দারুণ দায়িত্বশীর জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার। তাতেই ম্যাচ থেকে ছিঁটকে যায় বাংলাদেশ। দুই ছক্কা ও এক চারে মাত্র ১০ বলে ২১ রানে শাদাব খান ও দুই ছয় ও এক চারে ৮ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

 

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ২টি, মেহদী হাসান, শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজরা ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

 

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে টেনেটুনে ৭ উইকেটে ১২৭ রান তুলে বাংলাদেশ দল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই দলীয় ৩ রানের মাথায় নাঈমকে তুলে নেন পাক বোলার হাসান আলী। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের শেষ বলেই দলীয় ১০ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় টাইগাররা। ব্যক্তিগত ১ রানে প্রথম উইকেটে নাঈমের বিদায়ের পর দ্বিতীয় উইকেটে ফেরা সাইফও করেন ১ রান। বাংলাদেশের দুই ওপেনার সংগ্রহ করেন দুই রান।

 

ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশের দলীয় স্কোর শতরান পেরুতে পারে কিনা সেই শঙ্কা তৈরি হয়। তবে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ট উইকেটে ছোট ছোট জুটিতে শেষ পর্যন্ত ১২৭ রান তুলতে পারে দলটি। চতুর্থ উইকেটে আফিফ আর মাহমুদুল্লাউহর ২৫ বলে ২৬ রানের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। ইনিংসের নবম ওভারের শেষ বলে দলীয় ৪০ রানে মাহমুদউল্লাহও ফিরে যান সাজঘরে। ২৫ রানের জুটিকে কার অবদান ছিলো মাত্র ৬ রান। তার বিদায়ের পর উইকেটে আসা সোহানকে নিয়ে এবার জুটি গড়েন আফিফ। পঞ্চম উইকেটে ২১ বলে ২৩ রান করে এই জুটি। এরপরই ভেঙ্গে যায় তাদের জুটি। ইনিংসনের ১৩ম ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ৬১ রানের মাথায় সাজ ঘরে ফিরেন আফিফ। ৩৪ বলে ৩৪ রানে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংসটি তিনি খেলেন দুই চার ও দুই ছক্কায়।

 

আফিফের বিদায়ের পর ষষ্ট উইকেটে সোহান ও মাহদীর ২৪ বলে ৩৫ রানের জুটিতেই সম্মান জনক স্কোর পায় বাংলাদেশ। ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলে দুই ছক্কায় ২২ বলে ২৮ রান করা সোহান ফিরে যান সাজঘরে। ২০ বলে এক চার ও দুই ছয়ে শেষ পর্যন্ত ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন মেহদী হাসান। একটি বিশাল ছক্কায় তিন বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন তাসকিন। বাংলাদেশ থামে ৭ উইকেটে ১২৭ রানে।

 

পাকিস্তানের হয়ে হাসান আলী ৩টি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম ২টি করে উইকেট লাভ করেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com