জামালগঞ্জে ২ পোশাককর্মীকে জুস খাইয়ে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রপ্তার

প্রকাশিত: ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১, ২০২১

জামালগঞ্জে ২ পোশাককর্মীকে জুস খাইয়ে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় দুই পোশাককর্মীকে ঢাকার বাসে তুলে দেওয়ার কথা বলে জুস খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি আলমগীর মিয়াকে (২৫) গ্রেফতার করেছেন র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা।

 

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা থেকে র‌্যাবের সুনামগঞ্জ কোম্পানির (সিপিসি-৩) সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন।

 

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ রাসেল। তাকে জামালগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

 

আলমগীর হোসেনের বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামে। তার বাবার নাম বজলু মিয়া। এছাড়া মামলার অপর আসামি একই গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে আবুল কালাম (২৬) পলাতক রয়েছেন।

 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৫ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনাটি ঘটে। ওই দুই কিশোরী রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। লকডাউনের জন্য পরিবারের সঙ্গে তারা বাড়িতে আসে। সোমবার সন্ধ্যায় পোশাক কারখানা খোলার খবরে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।

 

বাড়ি থেকে তারা চাঁনপুর হারুন মার্কেটের সামনে এসে অভিযুক্ত আবুল কালামের টমটমে ওঠে। এ সময় কালাম তার বন্ধু আলমগীরকেও গাড়িতে উঠায়। দুই কিশোরী জামালগঞ্জ ফেরিঘাটে টমটম থেকে নামতে চাইলে চালক ঢাকার গাড়ি চলে না বলে তাদের জানায়। তখন তারা বাড়ি ফেরার জন্য ওই গাড়িতে উঠে বসে। এ সময় অভিযুক্ত আলমগীর তাদের হাতে জুস ধরিয়ে দিয়ে খেতে বাধ্য করে। জুস খেয়ে দুইজনই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 

আলমগীর ও কালাম তাদের চাঁনপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর ধর্ষণের কথা কাউকে বললে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে রাত ১১টায় একই গ্রামের তোফাজ্জল দুই কিশোরীকে পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের খবর দেয়।

 

স্থানীয় মেম্বার ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় দুই কিশোরীকে জামালগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

 

এ ঘটনায় ২৭ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে আবুল কালাম ও আলমগীর মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

 

জামালগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, আমাদের কাছে আলমগীর মিয়াকে এখনো হস্তান্তর করা হয়নি।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Flag Counter

আমাদের ভিজিটর সংখ্যা

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com