দফায় দফায় ভুমিকম্প: সিলেটে সকল ভবন পরীক্ষায় নামছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশিত: ২:০৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

দফায় দফায় ভুমিকম্প: সিলেটে সকল ভবন পরীক্ষায় নামছেন বিশেষজ্ঞরা

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সিলেটে সম্প্রতি ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়ায় নগরীর সর্বস্তরের মানুষজন তীব্র আতঙ্কের মাধ্যে রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে নগরবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নানা সচেতনতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান শাবির উপাচার্য।

 

তিনি আতঙ্কগ্রস্ত নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, সিসিক ও শাবিপ্রবির যৌথ উদ্যোগে দ্রুত কাজে নেমে পড়বো। প্রথম পর্যায়ে সিসিকের তালিকাভুক্ত ভবন, বাসাবাড়ি ও দোকানগুলোকে বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পরে যেগুলোকে ভেঙে ফেলা দরকার সেগুলোকে ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। আর যেগুলো মেরামত করলে ঠিক হয়ে যাবে সেগুলো মেরামত করার নির্দেশনা দেয়া হবে। এই কাজটি আমরা দ্রুতই শুরু করবো। আমরা সিসিকের সঙ্গে সহাবস্থানে থেকে সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা করবো এবং সম্ভাব্য সকল বিপদ এড়াতে প্রস্তুতি গ্রহণ করবো।

 

সিলেটে ১০ দিনের মধ্যে দফায় দফায় ভূমিকম্প পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে বুধবার (০৯ জুন) বিকেলে সিলেটে সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক জরুরি বৈঠকে কথাগুলো বলেন তিনি।

 

পাশাপাশি বার বার সিলেটে ভূ-কম্প নিয়ে উদ্বেগে আছেন নগরভবন কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. নুর আজিজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং শাবিপ্রবির সিভিল ও পেট্রোলিয়াম মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষকরা।

 

বৈঠক শেষে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সিলেটে দফায় দফায় ভূমিকম্পের আপদকালীন সময়ে শাবি কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শাবির একাধিক প্রকৌশলী টিম প্রস্তুতি নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও ভবন পরীক্ষা করতে নামবেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের দেয়া নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো এবং পর্যায়ক্রমে নগরীর ৪২ হাজার ভবন পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান মেয়র আরিফ।

 

উল্লেখ্য, গত রোববার (৩০ মে) ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে সিলেটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সেটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক। এর আগের দিন শনিবার (২৯ মে) পরপর পাঁচ বার মৃদু ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এদিন সর্বশেষ দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে পঞ্চম বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগে সকাল ১০টা ৩৭ মিনিটে প্রথম, ১০টা ৫১ মিনিটে দ্বিতীয়, বেলা ১১টা ২৯ মিনিটে তৃতীয় এবং ১১টা ৪০ মিনিটে চতুর্থ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সর্বশেষ সোমবার (০৭ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিট ও ৬টা ৩০ মিনিটে সিলেটে পরপর দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

 

।আরও পড়ুন

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com