নববধূ হত্যার দায়ে বাগেরহাটে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: ৩:০৪ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৬

নববধূ হত্যার দায়ে বাগেরহাটে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

law20160512123129

সুরমা মেইল নিউজ : বাগেরহাটের মোল্লাহাটে নববধূ ও ঢাকা ইডেন কলেজের ছাত্রী শরীফা বেগম পুতুল হত্যা মামলায় স্বামী মাহামুদুল আলমকে (৩৩)  মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ মে) বাগেরহাটের দায়রা জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাহামুদুল আলম বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর গ্রামের দৈবকান্দি গ্রামের শামসুল আলম শিকদারের ছেলে। এ ঘটনায় আসামি পলাতক রয়েছেন।

নিহত গৃহবধূ শরীফা বেগম পুতুল একই গ্রামের আবু দাউদ শেখের মেয়ে। তিনি ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়- ২০১৩ সালের ১০ মে মাহামুদুল আলমের সঙ্গে বিয়ে হয় শরীফা বেগম পুতুলের। বিয়ের তিন দিনের মধ্যে ১৩ মে রাতে নিজের বাড়িতে শয়নকক্ষে মাহমুদুল তার স্ত্রী পুতুলকে চাপাতি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর তিনি মোল্লাহাট থানা পুলিশের কাছে গিয়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন। মেয়ে হত্যার ঘটনায় পুতুলের বাবা আবু দাউদ শেখ বাদী হয়ে মাহমুদুল আলমকে আসামি করে পরেরদিন ১৪ মে মোল্লাহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মোল্লাহাট থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ খায়রুল আনাম ওই বছর ১০ নভেম্বর পুতুলের স্বামী মাহমুদুলকে অভিযুক্ত করে বাগেরহাট আদালতে অভিযোপত্র দাখিল করেন। আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছেন। মামলায় ১৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। পুতুল হত্যাকাণ্ডের তিন বছরের মধ্যে রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কাজ শেষ করেছেন আদালত। রায়ে মামলার বাদী, আইনজীবী এবং পাবলিক প্রসিকিউটর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী পুতুলের বাবা আবু দাউদ শেখ এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিয়ের তিন দিনের মাথায় মেহেদির রঙ মুছতে না মুছতে মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেন মাহমুদুল। সেই থেকে মেয়ে হারনোর কষ্ট বুকে নিয়ে দিন পার করছেন তিনি। মেয়ে হত্যা মামলায় তিনি আদালতে ন্যায় বিচার পেয়েছেন। পলাতক ওই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি। বাদী পক্ষের আইনজীবী ড. এ কে আজাদ ফিরোজ টিপু জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে তাঁরা সক্ষম হয়েছেন। আদালত মামলার রায়ে স্বামী মাহমুদুল আলমকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। বাগেরহাট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ আলী জানান, শরীফা বেগম পুতুলের বড় বোন সাগরিকা বেগম হলেন দণ্ডপ্রাপ্ত মাহমুদুলের বড় ভাই শাইকুলের স্ত্রী। আত্মীয়তার সূত্র ধরে ইডেন কলেজের ছাত্রী পুতুলের সঙ্গে মাহমুদুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং গোপনে তারা বিয়ে করেন। পরে ২০১৩ সালের ১০ মে তাদের  আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের তিন দিন পর ১৩ মে রাতে মাহমুদুল ঘুমাতে গিয়ে পুতুলের মোবাইল ফোনে অশ্লীল এসএমএস দেখতে পান। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পুতুলকে চাপাতি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন তার স্বামী। স্ত্রী হত্যা মামলায় আদালত আসামি মাহমুদুল আলমকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছে বলে পিপি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com