পরকিয়ার জেরে মায়ের হাতে শিশু সন্তান খুন

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২১

পরকিয়ার জেরে মায়ের হাতে শিশু সন্তান খুন

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা : গত ৩ জুন ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার দেওগাঁও চেড়াডাঙ্গী গ্রামের খলিলুর রহমানের পুত্র শিশু আরাফ (৬) দূর্ঘটনা বশত ফ্যানের সাথে গলায় গামছা পেঁচিয়া মৃত্যুবরণ করে।

 

এমন খবর পাওয়ার পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ। সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়।

 

এরপর শিশু আরাফের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের প্রেক্ষিতে সুরতহাল প্রস্তুতকারী অফিসার এসআই (নিঃ) পিযুস চন্দ্র সরকারসহ একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্ত টিম নিহত আরাফ’র পিতা খলিলুর রহমানকে তার ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে তার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পরামর্শ প্রদান করে।

 

পরামর্শ মোতাবেক খলিলুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ধারণা করেন যে, তার স্ত্রী তার শিশু সন্তানকে সুকৌশলে হত্যা করেছে। উক্ত হত্যাকান্ড ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তার স্ত্রী (জান্নাতা) বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন। পরে অপমৃত্যু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তদন্তটিম নিহত শিশুর মা জান্নাতা আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

 

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জান্নাতা তার ছেলে শিশু আরাফের হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।

 

জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতা জানান, তার স্বামী মো: খলিলুর রহমানের সাথে ঢাকা শহরে বসবাস করাকালীন একই ফ্লাটে বসবাসকারী জনৈক ইমরান নামক এক অবিবাহিত ছেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে উভয়ের মধ্যে গভীর প্রেম ভালবাসা এবং অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করত এবং মাঝে মধ্যেই ইমরান তার স্বামীর অবর্তমানে জান্নাতা আক্তার এর সাথে দেখা করার জন্য বাসায় আসত।

 

ইতোমধ্যে ঘটনার আনুমানিক ২ মাস পূর্বে লকডাউনের কারণে জুলফিকার তার স্ত্রী ও সন্তানদ্বয়কে ঠাকুরগাঁওয়ের দেওগাঁও চেড়াডাঙ্গী গ্রামের শশুর বাড়ীতে রেখে যায়। ইমরান জান্নাতা আক্তারকে বিবাহ করার জন্য মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। দুই সন্তান ও স্বামীকে ছেড়ে ইমরানকে বিয়ে করা নিয়ে জান্নাতা মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিল।

 

গত বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আরাফ তার নানার ঘরে দুষ্টামি করছিল যা জান্নাতা আক্তার সহ্য করতে না পেরে তার শিশু ছেলে আমির হামজা আরাফকে বিছানার উপর ফেলে দিয়ে পিছন দিক থেকে তার মাথা চেপে ধরে এবং এক পর্যায়ে শিশু আরাফের গলার দুই পাশ থেকে গামছা পেঁচিয়ে সজোরে টান দিয়ে শিশু আরাফের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

 

জান্নাতা আক্তার (২৭) বিজ্ঞ আদালতে তার শিশু আরাফের হত্যা সংক্রান্তে ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

 

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সদর থানার একটি চৌকস টিমের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধার কারণে এমন একটি হত্যাকান্ডের ঘটনার রহস্যে উম্মোচন হল। আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এসব ঘটনা সামাজিক অব্যক্ষয় বলে মনে করেন ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com