বিপর্যয়ের মুখে ইরাকের সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত: ৫:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৬

বিপর্যয়ের মুখে ইরাকের সাধারণ মানুষ

9ae08306819e7eff178e9080f24ecdc9-300

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরাকে অনেক দিন থেকেই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে সাধারণ মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের একটা বড় অংশে ঘাঁটি গেড়ে থাকা ইসলামিক স্টেটের সাথে সরকার বাহিনীর যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার মানুষ, পালিয়েছে লাখো মানুষ। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ফাল্লুজা ও রামাদি শহরের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানকার এক কোটি মানুষের জরুরি ত্রাণ প্রয়োজন।

ইরাকের আনবার প্রদেশের নিরাপত্তা কমিটির এক সদস্য রাজে বারাকাত আল-ঈসা কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, অবস্থা প্রতিমুহূর্তে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। খাদ্য সঙ্কট বাড়তে বাড়তে দুর্ভিক্ষের অবস্থা দাঁড়িয়েছে। আইএস জঙ্গিরা ফাল্লুজা শহরে কোন প্রকার খাবার ঢুকতে দিচ্ছে না।

ইরাকের ফাল্লুজা শহরই সর্বপ্রথম আইএসের দখলে চলে যায় প্রায় দুই বছর আগে। তখন থেকেই ইরাকি বাহিনী এই শহরের চারপাশে অবরোধ দিয়ে রেখেছে। রাস্তা ঘাট বন্ধ থাকায় খাবার, ওষুধ কিংবা জ্বালানি তেল কোন কিছুই প্রবেশ করতে পারছে না শহরে। বর্তমানে সেখানকার খাদ্য সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘ ইরাককে মানবিক বিপর্যয়ে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে ঘোষণা করেছে। আইএস যুদ্ধে ইরাকের ভিতরে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ স্থানান্তরিত হয়েছে। ইরাকের রামাদি শহরেও একই অবস্থা। সেখানে ইরাকি বাহিনীর সাথে আইএসের যুদ্ধে নিহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ, পালিয়েছে আরও অনেকে। এখনো যারা রয়েছে তারা খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে মানবেতর অবস্থায় রয়েছে।

২০১৪ সালের পর থেকে যুদ্ধে ইরাকের প্রায় ৩ হাজার ভবন ও ৪শ’ সড়ক ধ্বংস হয়েছে গেছে। আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় ৫০টি গণকবর খুঁজে পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ইরাক ছেড়ে পাড়ি দিয়েছে বিদেশে। যুদ্ধ এখনো থামেনি। এই মুহূর্তে জরুরি ত্রাণ সাহায্য না পেলে কোটি মানুষের প্রাণ বিপর্যয়ের মুখে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com