হঠাৎ করেই সেনমার্টিন আইল্যান্ডে (শেষ পর্ব)

প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৬

হঠাৎ করেই সেনমার্টিন আইল্যান্ডে (শেষ পর্ব)

1

তুমি রবে নীরবেঃ…… প্রিয় পাঠক, আজ “হঠাৎ করেই সেন্টমার্টিন আইল্যান্ডের” শেষ পর্বটি লিখেছেন রাজন চন্দ্র দেব এবং চিত্র ধারণ করেছেন অনিক দাস। আমাদের পর্যটকরা যখন কক্সবাজার থেকে ঢাকার পথে রওনা হবেন তখন সিলেটে আমাদের আরেক বন্ধু ধ্রুব ক্যন্সারের সাথে শেষ লড়াই করে মৃত্যুঞ্জয় হতে পারে নি। সকলকে কাঁদিয়ে চির অনুপস্থিতির দেশে রওনা হয়ে গেছে। তারিখ টা ২৯ শে ডিসেম্বর ২০১৫। তবে যাবার আগে ধ্রুব তার সর্বশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে (২৩ ডিসেম্বর) বলে গিয়েছিল-“আলভিদা ইয়ার আলভিদা / হো রাহে তুমসে হাম জুদা /লে চালে সারে গামতেরে/ খুশ রাহে ইয়ার তু শুধা /”। চিরবিদায়ের আগে আমরা কেউই বুঝতে পারলাম না তার ইঙ্গিত। এভাবে কাঁদিয়ে গেলি ভাই ?

তবে বন্ধু- তুমি রবে, তুমি রবে নিরবে হৃদয়ো মম। “হঠাৎ করেই সেন্টমার্টিন আইল্যান্ডে” উৎসর্গ করলাম বন্ধু তোমার নামে।

-আহসান আহসানুল হাবিব, সাহিত্য সম্পাদক, সুরমা মেইল ডটকম। 

2রাজন চন্দ্র দেব:……টেকনাফ বাজারে নামতেই আমরা আশেপাশের টংয়ের দোকানে সকালের নাস্তা সেরে নিলাম।খাবারের মান বেশ ভালো,দামটাও স্বাভাবিক। তবে এখানের চায়ের টেস্টটা একটু ভিন্ন। সচরাচর যারা ঢাকা কিংবা সিলেটের চা খেয়ে অভ্যস্ত তারা আসলে চায়ের মজাটা সেভাবে পাবেননা আর রং চা দূর থেকে দেখলে সেটা চা নাকি কোক সেটা বোঝাও বেশ দুস্কর আর টেস্টটাও বাজে।যাই হোক নাস্তা সারতে সারতে ঘড়িতে তখন আটটা।সিপ ছাড়তে প্রায় ঘন্টাখানের বাকি। আমরা আশপাশটায় একটু ঘুরাফিরা শুরু করলাম। খুব একটা সময় লাগলোনা আশপাশে মাদকব্যবসায়িদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলো।তাদের মূল টার্গেট মাঝবয়সী যুবকেরা।তারা নানাভাবে তাদের অফারগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরলো।আমরাও তাদের থেকে বিভিন্ন তথ্য নিতে থাকলাম। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। প্রশাসনের নাকের ডগায় তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ঝামেলাহীনভাবে মাদক সিপে তুলে দেয়।তাদের সাথে কথাবার্তায় আমরা খুব একটা আগালাম না।আমরা হাটতে হাটতে সিপের দিকে রওয়ানা দিলাম।আমাদের সিট ছিলো ওপেন ডেক।এবার আমাদের সিটগুলো পাশাপাশি। কিন্তু কুতুবদিয়া সিপের সার্ভিস আমাদের হতাশ করলো। তারা এক সিটের টিকেট কয়েকজনের কাছে বিক্রি করে। আর যারা সিট পায়না তারা খালি সিটগুলো জোরে বসে। তবে আমাদের সিটে অবৈধভাবে বসা লোকগুলো গায়ের জোর দেখিয়ে আমাদের সাথে পেরে উঠলোনা।অভি আর প্রতিকের দৃঢ়তায় আমরা আমাদের নির্ধারিত সিটেই বসলাম।

৯ টা বাজতেই সিপ ছাড়লো।আসল রোমাঞ্চটা তখনই শুরু হলো।চারপাশের ধুধু বাতাস আর গাংচিলের আনাগোনা এক অসাধারণ পরিবেশের সৃষ্টি করলো। আমরা বেশিক্ষণ সিটে বসতে পারলাম না।পর্যায়ক্রমে একজনকে সিটে বসিয়ে হেটে হেটে পুরো সিপ ঘুরতে লাগলাম। আর অনিক বেরিয়ে গেলো তার ক্যামেরা নিয়ে আশপাশটা ফ্রেমে বন্দি করতে।সমুদ্রের গাংচিল গুলো বেশ আধুনিক। তারা চিপস খায়।অনিক পকেটের টাকায় কেনা চিপস ছুড়ে দিতে দিতে তাদের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ক্যামেরায় বন্দি করতে লাগলো। সিপের একেবারে সামনে যেতেই এক নতুন অভিজ্ঞতা হলো। এখানের পরিবেশটা এমন যে আপনি এলসিটি কুতুবদিয়ায় আছেন না টাইটানিকে আছেন সেটা বুঝতে পারবেননা। অনেকে আবার বিভিন্ন কস্টিউওমে টাইটানিকের সেই বিখ্যাত পোজে ছবি উঠতে লাগলো। আমরা অবশ্য ততটা রোমান্টিক হতে পারলাম না। হেটে হেটেই আমরা তিন সাড়ে তিন ঘন্টা পার করে দিলাম।যখন সেন্টমার্টিন পৌছালাম ঘড়িতে তখন প্রায় সাড়ে বারোটা। যখন সারা রাস্তা আমরা শীতের তীব্রতা অনুভব করতে করতে আসলাম সেন্টমার্টিনে তখন বেশ গরম। টানা ১৭ ঘন্টার জার্নি র পর আমরা বেশ ক্লান্ত।আমরা দুটো গ্রুপে ভাগ হয়ে হোটেল খুজতে বেরিয়ে গেলাম। তবে এখানের হোটেল ব্যবসায়ীরা বেশ চালাক। আপনি যদি যাওয়ার আগে রুমভাড়া না জেনে যান তাইলে আপনাকে প্রায় দ্বিগুণ টাকা গুণতে হবে। অনেকগুলো হোটেল ঘুরে আর দামদর করে আমরা মাঝারী মানের একটি কটেজে উঠলাম। দুটি ডাবল বেড, এটাস্ট বাথরুম আর রুমের সামনে মনোরম পরিবেশের ডি ল্যাগণ কটেজের ভাড়া গুণতে হয়েছিলো ৮০০ টাকা করে। তবে অবকাশ কিংবা সমুদ্র বিলাসের মতো অভিজাত হোটেলে থাকতে হলে আপনাকে গুণতে হবে ১৭০০-৩০০০ এর মধ্যে। হোটেলগুলোতে পানির সমস্যা আছেকিনা তা উঠার আগে জেনে নিলে ভালো নইলে বেশ ঝামেলায় পড়তে হবে। কারণ আশেপাশে সুবিশাল জলরাশি থাকলেও সেন্টমার্টিনে পানির সমস্যা প্রকট। আমরা গোসল সেরে নিয়ে আশপাশের নামহীন একটি হোটেলে খাবার খেতে গেলাম।এখানে আপনি যাই করেননা কেন আপনাকে দরকষাকষি করতেই হবে নতুবা দ্বিগুণ অর্থ গুণতে হবে সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আমাদের খাবারের মেনুতে ছিলো সামুদ্রিক ইলিশ, আলু ভর্তা আর ডাল।দাম ১০০ টাকা জনপ্রতি।4

খাবার সেরে রুমে আসতেই আমরা সবাই বিছানায়। আর যেনো শরীর চলছিলোনা।তবুও অনিকের পীড়াপিড়িতে বেশিক্ষণ রেস্ট নেয়া গেলোনা। গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়লো সামনের বিচে।সঙ্গি আমি আর শচিন। কিছুক্ষণ অনিকের ক্যামেরাবাজির পর আমরা সবাই চললাম হুমায়ুন আহমেদের সমুদ্র বিলাসের সামনে।এটাই সেন্টমার্টিনের মূল আকর্ষণ। আমরা এখানেই সূয্যি মামাকে বিদায় জানাবো।আমরা যখন পৌছালাম ঘড়িতে তখন প্রায় পাঁচটা। সমুদ্রে তখন ভাটা। মৃত শৈবালের উপর হাটতে হাটতে আমরা সমুদ্রের দিকে বেশ অনেকখানি এগিয়ে গেলাম। সেখানেই হলো সূর্যাস্ত উপভোগ। যখন বিচে ফিরলাম সেখানে তখন সান্ধ্যকালিন বাজার বসেছে। সেখানে নানা রকম নাম না জানা সামুদ্রিক মাছের ছড়াছড়ি। তবে ইচ্ছে থাকলেও সবগুলো মাছের স্বাদ নেয়া হয়নি কারণ পকেটের কথাও একটু চিন্তা করতে হচ্ছিলো।

স্থানীয় বাজারে ঘুরাঘুরি শেষে আমরা রুমে ফিরলাম।ঘড়িতে তখন রাত আটটা। সেন্টমার্টিনে সন্ধ্যার পরে কারেন্ট আসে। আমরা আমাদের মোবাইল গুলো চার্জে লাগিয়ে রুমের বাইরে বসে খোশগল্প করতে লাগলাম। রাত ১০ টার দিকে আমরা রাতের খাবার সেরে নিলাম। খাবারের মেনুতে এবার মুরগির মাংস। মূল্য ১৫০ টাকা করে। যেহেতু এখানে রাত ১১ টার দিকে কারেন্ট চলে যায় সেহেতু আমরা আর খুব একটা দেরি করলাম না। রুমে ফিরে গেলাম।রুমে যেতেই আমাদের উপর রাজ্যের ক্লান্তি এসে ভর করলো। শরীর বিছানার স্পর্শ পেয়ে আর জেগে থাকতে চাচ্ছিলোনা। প্লেন হলো আমদের পরেরদিনের গন্তব্য ছেড়াদ্বিপ।শচিন ছাড়া আমরা সবাই বেশ অগুছালো।একেকজনের ঘুম ভাঙে অনেক দেরিতে।যেহেতু আমরা পরেরদিনই ফিরবো তাই হাতে খুব একটা সময় থাকবেনা ঘুরাঘুরির।শচিনের দায়িত্ব ভোরবেলা ঘুম ভাঙানোর।য বেশিক্ষণ জেগে থাকা গেলোনা, নিমিষেই ঘুমিয়ে পড়লাম।মাঝরাতে একবার ঘুমভাঙলো। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম রাত আনুমানিক দুইটা। দেখলাম রুম আলোকিত।মোমের আলোয় অভি অংকন গল্পে মেতে আছে আর প্রতিক মোবাইল নিয়ে গেইম খেলায় মত্ত।আমিও তাদের সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা সেরে ঘুমিয়ে গেলাম। জেগে থাকলে হয়তো একটু আড্ডাবাজী করা যেতো। কিন্তু সারাদিনের ক্লান্তির পর আর জেগে থাকতে পারলাম না।আমি ঘুমালাম আর তারা তাদের কাজ চালিয়ে গেলো। শচিনের চিল্লাচিল্লিতে ঘুম ভাঙলো। ঘড়িতে তখন সকাল ৭টা।কোনমতেই কেউ বিছানা ছাড়তে চাইছেনা।শচিনও নাছোড়বান্দা।সে তার দায়িত্ব পালন করবেই।বেশিক্ষণ বিছানায় থাকা গেলোনা। হাতমুখ ধোয়ে আমরা ছেড়াদ্বিপের উদ্দেশ্যে বেরুলাম।জাহাজঘাট থেকে আমরা আনুমানিক ১৫০০ টাকায় একটি স্পিডবোট ভাড়া নিলাম। স্পিডবোট ছাড়তেই আসল আমরা রোমাঞ্চ অনুভব করলাম।চারপাশে ধুধু বাতাস আর ছোটবড় ঢেউয়ের গর্জন।যদিও একটু ভয় লাগছিলো তবুও আনুমানিক মিনিটদশেকে পৌছায় আমরা একটু হতাশ হয়েছিলাম। আমরা আরোকিছুক্ষণ জার্নিটা উপভোগ করতে চাচ্ছিলাম।স্পিডবোট থামলো দ্বীপের মূল অংশের সামান্য দূরে।সমুদ্রের ঢেঊ আর পাথরের মধ্যে পা রাখা যাচ্ছিলোনা আর বোটটিও ঢেউয়ে দুলছিল। সবাই নামতে পারলেও আমার নামতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিলো,শেষমেষ অভির সহযোগীতায় নামলাম।ছেড়াদ্বীপের নামতেই এক অপরূপ সৌন্দর্যের মূখোমুখি হলাম।মনে হচ্ছিল আমরা যেনো আর বাংলাদেশে নেই।সমুদ্র পাড়ি দিয়ে নতুন এক দেশে পাড়ি জমিয়েছি। নির্জন একটি দ্বীপ। লোকজন নেই বলতে চলে। একটি চায়ের দোকান চোখে পড়লো।আমরা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নির্জন দ্বীপে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করলাম।দোকানির সাথে আমি রীতিমত আড্ডাবাজিতে মেতে উঠলাম।মনে হচ্ছিলো যেনো নতুন দেশের এক অপরিচিত নাগরিকের সাথে বসে আছি। যাই হোক ছেড়াদ্বীপের তীর ঘেষে আমরা হাটতে হাটতে আর অনিকের ক্যামেরায় বন্দি হতে হতে মিনিট বিশেকে আমরা ছেড়াদ্বীপের শেষপ্রান্তে পৌছালাম।যেহেতু আমাদের হাতে সময় খুব কম তাই আমরা আবার ফিরতে শুরু করলাম।কিছুদূর আসতেই আমরা লক্ষ্য করলাম আমরা যে বালির রাস্তা দিয়ে হেটে এসেছি সেটি আর নেই।যেদিকে তাকাচ্ছি শুধুই পানি।পানি ক্রমাগত বাড়ছে।আমরা বেশ ভয় পেলাম। ঢেউ আর পিচ্ছিল পাথরে দাড়ানোটাই মুশকিল। সবাই সামনে এগিয়ে গেলেও আমিই সবচেয়ে পেছনে পড়ে রইলাম। এখানে সাতার দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। পানি তখনো আমাদের হাটুস্পর্শ করেছে।আর একটু বাড়লে আসলে বাচামরা নিয়ে টানাটানি শুরু হবে। প্রতীকের সহযোগীতায় পিচ্ছিল পাথরের উপর এক পা দুপা করে এগুতে লাগলাম।একবার বেলেন্স হারালে কি হবে সেটা কেউ জানেনা।আর কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এখানে উদ্ধার করার মতোও কেউ নেই।আমরা কোনমতে পাথরের দুর্গম রাস্তা পার হলাম। হাত পা লক্ষ্য করতেই দেখলাম বেশ কিছু অংশ কেটে গেছে।আমাদের মধ্যে পা সবচেয়ে বেশি কেটেছিলো শচিনের। একবার বেলেন্স হারাতে হারাতেও কোনমতে দাড়িয়েছে। আমাদের এমন অবস্থা দেখে বেশ কয়েকজন পর্যটক আর সামনে এগুনোর সাহস পেলোনা। যখন আমরা স্পিডবোটে ফিরলাম তখন দেরি হয়েছে তাই বোটচালক আমাদের সাথে চরম মাত্রায় দুর্ব্যবহার শুরু করলো।স্থানীয় লোকগুলোও চালকের পক্ষ নিচ্ছিল। এমন অবস্থায় যেখানে আমরা সহানুভূতি পাবো ভেবেছিলাম সে যায়গায় চালকের খারাপ ব্যবহার দেখে প্রতিক বেশ খেপে গেলো। সে কোনকিছু চিন্তা না করে যখন মাঝির দিকে এগিয়ে গেলো তার কলার চেপে ধরবে বলে স্থানীয় লোকগুলোর হুশজ্ঞান তখন আস্তে আস্তে ফিরতে লাগলো।তারা চালককে বুঝিয়ে আমাদের থামালো।আমরা ভারি মন নিয়ে স্পিডবোটে উঠলাম।ভারি মন নিয়ে আসলে সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়না।সেন্টমার্টিনে ফিরে যখন আমরা জাহাজঘাটের কাউন্টারে অভিযোগ করলাম তারা দায়সারা ভাব দেখালো। তারা চালককে কিছুই বললোনা তবে আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলো।আমরা স্থানীয় বাজারে ফিরে নাস্তা সেরে নিলাম। সেন্টমার্টিন সবচেয়ে বিখ্যাত নারিকেলের জন্য সেই নারিকেল খেতেই আমাদেরকে দরকষাকষি করতে হয়েছে অনেক।৬০ টাকা দরে আমরা তিনটি নারিকেল ভাগ করে খেলাম।ঘড়িতে অখন ১১ টা। কটেজ মালিকের ফোনে আমরা রুমে ফিরলাম।কিছুক্ষণের মধ্যেই রুম ছাড়তে হবে।5

আমরা ফ্রেশ হয়ে আবার গেলাম সমুদ্রবিলাসের সামনে।জোয়ারের পানি সেখানেও লক্ষ করা গেলো। আগেরদিন সন্ধ্যায় যেখানে আমরা হেটে হেটে অনেকদূর চলে গিয়েছিলাম আর তখন বিচের সীমানা ঘেষে পানি থইথই করছে।আমরা খানিক্ষণ সমুদ্র বিলাস করে রওয়ানা দিলাম দুপুরের খাবার খাবো বলে।কটেজ থেকে জিনিসপত্র নিয়ে যখন বেরুচ্ছিলাম কটেজের কেয়ারটেকার আমাদের এগিয়ে দিতে আসলো।তার ব্যবহার দেখে আমরা মুগ্ধ।সে আমাদেরকে আবার আসতে অনুরোধ করলো। একবারের জন্য মনে হচ্ছিলোনা যে সে কেয়ার-টেকার মনে হচ্ছিলো যেনো সে আমাদের আত্মীয় যার বাড়িতে আমরা বেড়াতে এসেছি।আমদের দুপুরের খাবারের মেনুতে ছিলো রূপচাদা ভাজি ডাল আর আলুভর্তা। মূল্য ১৪০ টাকা জনপ্রতি।খাওয়া দাওয়া শেষে দুইটা পনেরোর দিকে আমরা সিপের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।কিন্তু মন মানছিলোনা।ইচ্ছে হচ্ছিলো এখানেই থেকে যাই।সিপে উঠতে আবারো আমাদের ঝামেলায় পড়তে হলো।আমাদের সিটের টিকেট আমরা ছাড়াও আরেকজন কে দেয়া হয়েছিলো।এবার আর আমরা তাদেরকে উঠালামনা।ভদ্রলোকের ব্যবহারেই আমরা মুগ্ধ। আমরা আমাদের সিট ছেড়ে দিয়ে সিপের বাইরে খোলা জায়গায় বসলাম।এখানে বসে সৌন্দর্য আরো বেশি অনুভব করা যাচ্ছিলো।তিনটায় সিপ ছাড়লো।আমরা ভারি মন নিয়ে সেন্টমার্টিনকে বিদায় জানালাম। জলন্ত তামাকদন্ডে চুমুক দিতে দিতে সমুদ্র দেখা হচ্ছিলো আর নিজেকে বাংলার কোন এক নবাব মনে হচ্ছিলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই অনিক আবার তার ক্যামেরা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়লো আর আমরা বাকিরা সবাই চেয়ারে গা ছেড়ে দিয়েছি।জাহাজে বসে এক অন্যরকম সূর্যাস্ত দেখা হলো। এতোদিন যা ছবিতে দেখেছিলাম এবার তা বাস্তবে দেখার সুযোগ হলো।পালতোলা নৌকা, পানিতে সূর্যের প্রতিফলন আমাদের আবারো মুগ্ধ করলো।যখন টেকনাফ পৌছালাম তখন ঘড়িতে ছয়টা।তবে জাহাজ থেকে নামতে নামতেই আমাদের ৪০ মিনিট লেগে গেলো।এবার আমাদের যাত্রা কক্সবাজার। অনেক ঝামেলার পরে অনিক টিকেট জোগাড় করলো তাও লোকাল বাসের। ফার্স্ট আর সেকেন্ড গিয়ারে চলা গাড়ি রাত ১০ টার দিকে কক্সবাজার পৌছালো। ডিসেম্বরের ২৯ তারিখ ছিলো সেদিন।কক্সবাজার পর্যটকে জায়গা হচ্ছেনা।যাই হোক প্রতিকের জানাশুনা ছিলো বিধায় আমরা অল্পমূল্যে একটি ভালো মানের হোটেল পেলাম। হালকা রেস্ট নিয়ে রাতের খাবার সেরে নিলাম। দিনশেষে এতই ক্লান্ত ছিলাম যে সবার আগে আমিই ঘুমিয়ে গেলাম। শরীরটা কক্সবাজারেই ছিলো কিন্তু মনটা পড়ে রইলো সমুদ্রকন্যা সেন্টমার্টিনের কাছে।রাত ১২ টার পরে সবার চিল্লাচিল্লিতে আমার ঘুম ভাঙলো।কারণ জানাগেলো সেদিন আমার জন্মদিন বলে আহসানের পরামর্শে আমাকে রেগ দেয়ার জন্য ঘুম থেকে তুলা হইছে। আমিও নাছোড়বান্দা কোনমতে শরীরখারাপের ভান ধরে রেগ থেকে রক্ষা পেলাম।জন্মদিনের আনন্দ আর বেশিক্ষণ নেয়া গেলোনা।খবর এলো আমাদের এক সহপাঠী ক্যান্সারের কাছে হার মেনেছে।নিমিষেই শোকের ছায়া নেমে এলো আমাদের মাঝে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com