সিলেট ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:২৯ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২২
আব্দুল করিম কিম :
যারা ‘জাফলং পর্যটন উন্নয়ন কমিটি’র হয়ে ১০ টাকা চাঁদা আদায় করছেন, সেই মহান চাঁদাবাজদের কোন বিবেচনায় স্বেচ্ছাসেবক বলা হচ্ছে? সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র জাফলং-এ পর্যটকদের সাথে যে বর্বর আচরণ করলো উপজেলা প্রশাসনের নিয়োগ দেয়া লাঠিয়াল বাহিনী তা দেখে প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
হাজার হাজার মানুষের সামনে স্বেচ্ছাসেবক নামধারী লাঠিয়াল বাহিনী সিলেটের অতিথিপরায়ণতার ঐতিহ্যগত সংস্কৃতিকে ধুলায় মিশিয়ে দিলো।
স্বেচ্ছাসেবকদের গায়ে দেয়া জ্যাকেটে লেখা আছে ‘জাফলং পর্যটন উন্নয়ন কমিটি’। এই যদি হয় ‘পর্যটন উন্নয়ন’ তাহলে কিছুই কাউকে বলার নেই।
সিলেটের বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত স্থানে সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসকের আমলে শুনেছি এইসব ‘পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ক কমিটি’ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মূলত; এই কমিটি গঠনে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মূল ভূমিকা রেখেছেন। এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য। স্থানীয় মানুষদেরকে নিয়েই এমন কাজ শুরু করা উচিত। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, উদ্যোগ ভালো হলেও এখানে যুক্ত মানুষেরা পর্যটনের উন্নয়নে আগ্রহী, না নিজের ভাগ্য উন্নয়নে আগ্রহী? উল্ল্যেখ করতে হয়- মাস কয়েকপূর্বে জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওর শাপলা বিল ধ্বংসের চক্রান্তে কমিটির লোকজন ছিলেন। সে সময় এই বিষয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গঠন করা এইসব কমিটির সাথে যুক্ত ব্যাক্তিদের নামের তালিকা ও পেশা সম্পর্কে তথ্য তালাশ করা প্রয়োজন। এই পর্যটন উন্নয়নে এইসব কমিটিতে যুক্ত ব্যক্তিরা অতীতে পর্যটন বিষয়ে কী কর্মসাধন করেছেন তা সকলের জানা প্রয়োজন।
।আরও পড়ুন
পর্যটকবান্ধব কমিটি গঠন করা হয়ে থাকলে আজকের ঘটনা কোনভাবেই ঘটতে পারতো না। কমিটির মানুষ পর্যটকদের সাথে কেমন আচরণ করেন, কিভাবে সেবা প্রদানের মনোভাব ধারন করেন তা দেখে স্বেচ্ছাসেবক নামধারীরা শিক্ষা নিতে পারতো। এখানে আসল বিষয় হচ্ছে টাকা উত্তোলন। অসংখ্য হোটেল ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে জাফলং পর্যটন এলাকার খাস জমিতে। ভাসমান দোকান আছে অসংখ্য। এসবের ভাড়া কে আদায় করে? ব্যবসা বসানোর অনুমতি কে প্রদান করে?
এই পর্যন্ত পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কী কী উন্নয়ন সাধন করেছে কেউ বলতে পারবেন?
জাফলং-এর সৌন্দর্য্য দর্শনের জন্য ১০/= যদি প্রবেশমূল্য হয় তবে তা খুব বেশী কিছু না। কিন্তু এই টাকা কোন বিবেচনায় আদায় হচ্ছে? এইভাবে চাঁদা নিয়ে যদি প্রাকৃতিক স্থান সমুহ স্থানীয়ভাবে পরিচালনা করতে হয় তবে পর্যটন উন্নয়নে সরকারের কাজ কী?
সিলেটের প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে আমরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়ে কাজ করি। আজ পর্যন্ত পর্যটন বিষয়ক সরকারী এসব নীতিনির্ধারনি আলোচনা সভা বা উদ্যোগে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। সিলেটের রাতারগুল জলারবন রক্ষায় এবং সেখানে অপরিকল্পিত স্থাপণা নির্মাণ বন্ধে আমরা দিনের পর দিন আন্দোলন করেছি। এমন কি আমরণ অনশনে বসার ইতিহাস আছে। কিন্তু রাতারগুল বিষয়ে নেয়া কোন সিদ্ধন্তে আমাদের মতামত নেয়া হয়নি। হবেও না। কবি সেই কবে লিখে গিয়েছিলেন, সবকিছু নষ্টদের আধিকারে যাবে। আর যাবে বলা ভুল হবে। বলতে হবে, সবকিছু এখন নষ্টদের আধিকারেই আছে। নষ্টদের অধিকার থেকে ভালোদের হাতে আবার সবকিছু ফিরিয়ে আনতে হবে।
লেখক : আব্দুল করিম কিম, সাধারণ সম্পাদক, বাপা, সিলেট।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি